কক্সবাজার সৈকত যেন গরুর চারণভূমি!

0
6

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের অব্যবস্থাপনার বদনাম যেন কাটছে না! সৈকতে ভিক্ষুক, হিজড়া, বডি ম্যাসেজ, চিপস্, পানি, সিগারেট ও ঝালমুড়িওয়ালাদের উৎপাত দীর্ঘদিনের। এসব নিয়ে বিশ্বনন্দিত সমুদ্র সৈকতের ব্যবস্থাপনার সমালোচনার শেষ নেই। ক্ষুণ্ন হচ্ছে এ সৈকতের ভাবমূর্তি। অথচ এসব ‘গুরুতর’ সমস্যা কখনো রোধ করা যায়নি। উল্টো সম্প্রতি নতুন করে যোগ হয়েছে গরুর উৎপাত! কিন্তু এরপরও টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের।

সম্প্রতি এক বিদেশি নারী পর্যটক সৈকতে গরুর উৎপাত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একটি ভিডিও শেয়ার করে। এই ভিডিও ভাইরাল হলে নতুন করে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে।

সৈকত ব্যবস্থাপনার জন্য বিচকর্মী ও ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকলেও কেন দিন দিন নানা উৎপাত বাড়ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি পর্যটন মৌসুমের শুরু থেকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে গরুর উৎপাত বেড়েছে। সৈকতের সুগন্ধা, লাবণী ও কলাতলী পয়েন্টে গরুর অবাধ বিচরণ লক্ষ করা যায়। তার মধ্যে সুগন্ধা পয়েন্ট নিয়মিত ও বেশি সংখ্যক গরু বিচরণ করতে দেখা যায়।

সর্বশেষ মঙ্গলবারও (২২ ফেব্রুয়ারি) সৈকতে ১০টির বেশি গরু বিচরণ করতে দেখা গেছে। শুধু কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত নয়; কক্সবাজার শহরের সর্বত্র গরুর বিচরণ রয়েছে।

সৈকতে কেন গরু আসে?

তার কারণ হিসেবে জানা গেছে, সৈকত লাগোয়া রেস্তোরাঁ বা খাবারের দোকানের উচ্ছিষ্ট খাবারসহ নানা বর্জ্য সৈকতের বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থানে ফেলা হয়। আর এসব পঁচা-বাসী খাবারের লোভে গরুগুলো এসব এলাকায় চলে আসে। আর সুযোগের সদ্ব্যবহার করে স্বয়ং গরুর মালিকেরাই। সৈকত এলাকায় গরু ছেড়ে কয়েকদিনেও এসব নিরীহ প্রাণীগুলোর খোঁজখবর নেয় না তারা। রাতদিন সৈকত ও আশপাশের এলাকায় বিচরণ করে গরুগুলো। দেখা যায়, সারাদিন সৈকত এলাকার বিভিন্ন স্থানে বিচরণ শেষে গরুগুলো বিকেলের দিকে বিশ্রামের জন্য সৈকতের মূলস্থানকে বেছে নেয়। এসময় পর্যটকদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

কেমন অনুভূতি পর্যটকদের?

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতজুড়ে নিয়মিত অনেক কুকুরের বিচরণ পরিলক্ষিত হলেও পর্যটকদের কাছে তা তেমন উৎপাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায় না। তবে গরুর অবাধ বিচরণ, তা দেখতে-শুনতে কেমন যেন খটকা লাগে! —এমনটি বলেছেন পর্যটকরা। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া বিদেশিনীর গরুর ভিডিওতে প্রায়জনই এমন মন্তব্য করেছেন। তারা জানিয়েছেন, সৈকতে গরু বিচরণ অস্বাভাবিক ব্যাপার! কারণ পর্যটনের সঙ্গে গরু কোনোভাবে যায় না।

মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধ পয়েন্টে কথা হয় নরসিংদী থেকে আসা পর্যটক আবদুল ওহাবের সঙ্গে। তিনি বলেন, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে মানুষ আসে রিলাক্স করতে। ঠিক এই সময়ে গরু বা কোনো অযাচিত প্রাণীর উৎপাত খুব অস্বস্তিকর।

জামালপুর থেকে আলী আহসান পর্যটক দম্পতি বলেন, গরু দেখলে নারী ও বাচ্চারা এমনিতে ভয় পায়। আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে অনেক পুরুষও। কিন্তু সৈকতে বেড়াতে এসে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া খুবই বিড়ম্বনার।

কি বলছেন দায়িত্বশীলরা—

সমুদ্র সৈকতে নিয়মিত গরু বিচরণে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। এমনকি সম্প্রতি বিদেশিনীর ভিডিও ভাইরালেও টনক নড়েনি সংশ্লিষ্টদের। এ বিষয়ে বিচকর্মীদের দলনেতা মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, আগে থেকেই সৈকতে গরুর বিচরণ ছিল। গরু তাড়ানোর জন্য তারা সবসময় চেষ্টা করেন। আগে গরু আটকে রাখা হতো। কিন্তু কখনো গরুর খোঁজে আসে না মালিকরা। মরহুম কাজী মোর্শেদ আহমদ বাবু ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর থাকাকালে আটকে রাখা গরুর মালিকদের খুঁজে বের করে জরিমানা বা শাস্তির আওতায় আনতেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পর পৌরসভার পক্ষ থেকে আর কোনো তদারকি করা হয় না। বরং এখন আটকে রাখলে উল্টো গরুগুলো অনাহারে কষ্ট পায়।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর এম এ মঞ্জুর বলেন, ‘বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি থেকে আমাদের সহযোগিতা চাওয়া হলে আমরা সহযোগিতা করবো।’

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘ট্যুরিস্ট পুলিশের কাজ হচ্ছে পর্যটকদের নিরাপত্তা দেখা। গরু বিচরণ দেখা আমাদের বিষয় না। তারপরও ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা সৈকতে ঢুকে পড়া গরুগুলো তাড়ানোর ব্যবস্থা করেন।’

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান বলেন, ‘সৈকতে গরু অবাধ বিচরণের বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। খোয়াড় বানিয়ে সৈকত এলাকায় বিচরণ করা গরুগুলো আটকানো হবে এবং গরুর মালিকদের জরিমানার আওতায় আনা হবে।’

আগেপেকুয়ায় চীনা শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার
পরেবাঁকখালীর প্যারাবন ধ্বংসের ঘটনায় ৪২ জনের বিরুদ্ধে আরও এক মামলা