জেলাজুড়ে অপসাংবাদিকতায় অতিষ্ট সাধারণ মানুষ

0
4

 

বিশেষ প্রতিবেদক
কক্সবাজার জেলাব্যাপী সক্রিয়া হয়ে উঠেছে চাঁদাবাজ চক্র। চক্রটি সাংবাদিকতার মতো মহান পেশাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সর্বত্র দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আন্ডারগ্রাইন্ড ও নাম সর্বস্ব পত্রিকা, অনলাইন এবং অনলাইন টিভির নাম ব্যবহার প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজি করার অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষসহ সরকারি—বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নানা অপরাধে জড়িতরা নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে সাংবাদিকতাকে টার্গেট করছে। ব্যাঙের ছাতার মতো অনলাইন ও অনলাইন টিভি খুলে জেলাব্যাপী সাংবাদিক নিয়োগের নামে বাণিজ্য করছে। আর তাতেই রাতারাতি সাংবাদিক বনে যাচ্ছে মাদক কারবারী, বিভিন্ন মামলার আসামী, চিহ্নিত প্রতারক ও অপরাধীরা। তাদের মধ্যে নেই একাডেমিক যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ ও লেখনির যোগ্যতা। চাঁদাবাজি করাই এদের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। টাকার জন্য হুমকী ধমকী তাদের দৈনন্দিন কাজ। মূলধারার সাংবাদিকদের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই। তাঁদের কারণে সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে মূলধারার সাংবাদিকদের। সেই সাথে কলুষিত হচ্ছে মহান এই পেশা।

সম্প্রতি উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, রামু, চকরিয়া, সদর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলায় সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন সরকারি বেসরকারী দপ্তরে সাংবাদিক তকমা ব্যবহার করে এসব প্রতারক বুম ও ক্যামরাসহ এসে চাঁদাবাজী করছে বলে দাবী বিভিন্ন মহলের। উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে গাড়ী নিয়ে এসে কিছু সাংবাদিক প্রায় সময় গাড়ি ভাড়া, দুপুরের খাবার ও তাদের সম্মানির কথা বলে মাসে দু’তিনবার বিভিন্ন ভাবে বিরক্ত করে। তাদের বিরক্তির কারণে সকল কর্মকর্তা অতিষ্ট।

এদের মধ্যে অনেকেই প্রশাসনের কাছে মাদক নিয়ে আটকও হয়েছেন। চাঁদাবাজি করতে গিয়ে জেলও খেটেছেন। অনেকেই গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারির কারণে চাঁদার টাকা ফেরত দিয়েছেন এমনও প্রমাণ রয়েছে।

সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে বিভিন্ন জেলা—উপজেলার ভুয়া সাংবাদিকরা। তথাকথিত আইপিটিভি (ইউটিউব), অনলাইন নিউজপোর্টাল ও যত্রতত্র ফেসবুক লাইভ, প্রেস লেখা স্টিকার, আইডি কার্ড ঝুলিয়ে অবাধে চলাচল করছে ওইসব সাংবাদিক নামধারী ব্যক্তি। অথচ তাদের কোনো অনুমোদন নেই। শুধু ইউটিউব ও ফেসবুকে একটি প্রোফাইল তৈরি করে সেটিকে টিভি চ্যানেল অথবা নিউজপোর্টাল হিসেবে ঘোষণা করে প্রচার করা হচ্ছে। এমনকি নারী নির্যাতন, মাদক, চাঁদাবাজি, ব্ল্্যাকমেইলিংয়ের সঙ্গে জড়িতরাও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

উখিয়া—টেকনাফে হঠাৎ রোহিঙ্গা আসার কারণে এনজিওর অফিস ও বিভিন্ন কর্মকান্ডের দপ্তর বেড়ে যাওয়ায় যেখানে—সেখানে অবাধে বিচরণ করছে কিছু ভুয়া সাংবাদিক। করে যাচ্ছে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড।

উখিয়া—টেকনাফ উপজেলায় কর্মরত দেশের বহুল প্রচারিত কয়েকটি মিডিয়ার প্রতিনিধি ও সিনিয়র সাংবাদিকরা জানান, উখিয়ার উপজেলার বিভিন্ন স্থান ও সরকারী—বেসরকারী দপ্তরে সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি ও নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে কার্ডধারীরা।

এ ধরনের ভুঁইফোঁড় কথিত সাংবাদিকরা উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়ি, এনজিও, বনবিভাগ, কাস্টম অফিস, হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি, হাসপাতাল ও নানা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচারের ভয় দেখিয়ে করছে চাঁদাবাজি। এছাড়া কেউ খাস জমিতে ভবন নির্মাণ করলেই তাদের কবলে পড়তে হয়। বালু উত্তোলন, মাদক কারবারী পাহাড় কর্তনকারীদের নিউজের হুমকী দিয়ে চাঁদা আদায় করা এখন নিত্য নৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ ছাড়া সভা—সমাবেশসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের বুম হাতে কিংবা আইডি কার্ড ঝুলিয়ে উপস্থিত হয় সেখানে। এরপর নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে জাহির করতে করে নানা অঙ্গভঙ্গি। অনুষ্ঠান শেষে রাজনৈতিক নেতা কিংবা আয়োজকদের পেছনে পেছনে ছোটে মৌমাছির ঝাঁকের মতো।

এ বিষয়ে উখিয়া প্রেস ক্লাব ও অনলাইন প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইদ মোহাম্মদ আনোয়ার ও শফিক আজাদ বলেন, সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে অপকর্মে জড়িতরা আইন—শৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে। অপসাংবাদিকরা কখনই প্রশ্রয় পাবে না।

রিপোর্টার্স ইউনিটি কক্সবাজারের সভাপতি সভাপতি এইচ,এম নজরুল ইসলাম বলেন, অপসাংবাদিকতার কারণে মূলধারার সাংবাদিকদের বিব্রতকর অবস্থা পড়তে হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি। ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে এসব চাঁদাবাজদের এখনই নিয়ন্ত্রণ করা জরুরী হয়ে পড়েছে।

আগেউখিয়ায় স্কুল ছাত্রী নিখোঁজের ২১ দিনেও মেলেনি 
পরেচকরিয়ার নিহত ৬ ভাইয়ের পরিবার পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার ৮টি বাড়ি ও অর্থ সহায়তা