রামুতে বনবিভাগের সামাজিক বনায়নে রোহিঙ্গা শ্রমিক

0
4

 

কফিল উদ্দিন রামু:

স্থানীয়দের কাজ থেকে বাদ দিয়ে বনবিভাগের সামাজিক বনায়নে রোহিঙ্গা শ্রমিক দিয়ে কাজ পরিচালনা করার তথ্য পাওয়া গিয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে জানা যায়,কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের আওতাধীন বাকখাঁলী রেঞ্জের ঘিটাতলী বিটের জুমছড়ি মরিচ্যা চর এলাকায় রোহিঙ্গা শ্রমিক দিয়ে সামাজিক বনায়নের সকল প্রকার কাজ করানো হচ্ছে। উক্ত সামাজিক বনায়নের কোন কাজেই ব্যবহার করা হচ্ছে না স্থানীয় শ্রমিকদের।সুত্র আরও জানায়,রোহিঙ্গা শ্রমিকদের কম পারিশ্রমিক দিয়ে কাজ করানো সম্ভব বলে তারা(বনবিভাগ) স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীদের সাথে যোগসাজশ করে উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গা এনে সামাজিক বনায়নের কাজ পরিচালনা করছেন। বাকখাঁলী রেঞ্জের আওতাধীন প্রায় ২৮০ হেক্টর পাহাড়ী ও সমতল ভুমিতে সামাজিক বনায়ন করা হবে।

সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা মেলে,রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের ০২ নং ওয়ার্ডের জুমছড়ি মরিচ্যাচর এলাকায় বনবিভাগের সামাজিক বনায়নের কাজ করছে ৪০-৬০ জন রোহিঙ্গা। তারা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে তাদের কাজ পরিচালনা করছেন।তারা(রোহিঙ্গা শ্রমিক) প্রতিবেদকে দেখে পালানোর চেষ্ঠা করে ওরে পরিচয় গোপন করে স্থানীয় মানুষ হিসাবে তাদের একজনের সাথে কথা বলা হয়।

তবে তারা(রোহিঙ্গা শ্রমিক) বেশ উগ্রমেজাজী ও দা চুরি সহ নিয়ে থাকার কারনে তাদের সাথে বেশ কথা বলা সম্ভব হয়নি। তাদের সাথে কাজ করা একজন জানান তারা উখিয়া উপজেলার বালুখালি, কুতুপালং সহ বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে স্থানীয় সৈয়দ আলম ও মোহাম্মদ আলম নামের দুই সহোদর ভাইয়ের মাধ্যমে বনবিভাগের এই কাজ করতে এসেছে। তারা কাজ করছে ১৫ দিন ধরে এবং সামনে আরও ২-৩ মাস কাজ করবে বলে জানান তারা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, তাদের(রোহিঙ্গা শ্রমিক) দৈনিক মজুরি দেওয়া হয় ৫০০ টাকা।কিন্তু সেই টাকা থেকে মোহাম্মদ আলম নামের এক ব্যক্তিকে জনপ্রতি দৈনিক ৫০ টাকা করে কমিশন দিতে হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গর্জনিয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের জুমছড়ি মরিচ্যাচর এলাকার হাসান আলীর পুত্র মোহাম্মদ আলম এবং সৈয়দ আলমের নেতৃত্বে বাকখাঁলী রেঞ্জের কর্তাদের সাথে যোগসাজশ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গা শ্রমিক এনে স্থানীয়দের বাদ দিয়ে সামাজিক বনায়নের কাজ করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আগত শ্রমিকরা দিনে তাদের কাজ শেষ করে রাত্রীযাপন করেন সহোদর দুইভাই মোহাম্মদ আলম প্রকাশ মাত আলম ও সৈয়দ আলমের বাসায়। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়,সৈয়দ আলমের একটি মেয়েকে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি রোহিঙ্গা পরিবারের ছেলের সাথে বিয়ে দেয়। ফলে তার (সৈয়দ আলম) সাথে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের লোকজনের সাথে ভাল সম্পর্ক গড়ে উঠে,যার কারনে বনবিভাগের কর্তাদের সাথে মাসোহারা ভিক্তিতে রোহিঙ্গা শ্রমিকদিয়ে স্থানীয়দের বাদ দিয়ে সামাজিক বনায়নের কাজ করানো হয়। সৈয়দ আলমকে রোহিঙ্গা শ্রমিকদের দৈনিক কাজের মজুরি থেকে ৫০ টাকা করে দৈনিক কমিশন দিতে হয়।

এবিষয়ে জানতে চটগ্রাম দক্ষিন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (সিএফ) বিপুল কৃষ্ণ দাশকে বেশ কয়েকবার মোবাইল ফোনো যোগাযোগের চেষ্ঠা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। হোয়াসএপে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও যোগাযোগ করা যায়নি।

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) আনোয়ার হোসেন সরকার বলেন, আপনাদের মাধ্যমে আমি বিষয়টা অবগত হয়েছি এবিষয়ে সংলিষ্টদের সাথে কথা বলছি।

বাকখাঁলী রেঞ্জ কর্মকর্তা সরওয়ার জাহানের কাজ থেকে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি রোহিঙ্গাদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন কক্সবাজার জেলার কোন স্থানে রোহিঙ্গা নাই টেকনাফ সহখানে ত ওরা পাহাড় কেটে সাবাড় করে ফেলছে,তিনি আরো বলেন কে কোথায় কি কাজ করতেছে ছেলে নাকি মেয়ে রোহিঙ্গা নাকি স্থানীয় সেইটা দেখা রেঞ্জ অফিসারের দায়িত্ব না সেটার দায়িত্ব বিট অফিসারের। তিনি প্রতিবেদকের সাথে ধমকের সাথে বলেন আপনারা কোন একটা বিষয় জানলে সেইটা নিয়ে এত দোড়াদোড়ি শুরু করে দেন বলে তিনি রোহিঙ্গাদের পক্ষে সরকারি অবস্থান নেন এবং
এতগুলা মানুষ এত কষ্ট করে কাজ করতেছে এগুলা না দেখে আপনি রোহিঙ্গারা কাজ করতেছে এগুলা নিয়ে বসে আছেন। প্রথমে তিনি রোহিঙ্গাদের কাজ করার বিষয়টা স্বীকার করলেও পরে তা অস্বীকার করেন।

রোহিঙ্গাদের সাথে রেঞ্জ অফিসের সমন্নয়ক করা মোহাম্মদ আলম জানান,আমি বাকখাঁলী রেঞ্জ অফিসের রেঞ্জ কর্মকর্তাকে জানিয়েছিলাম কিছু রোহিঙ্গা পেয়েছি,ওদের দিয়ে কাজ করাব কিনা,ওনি আমাকে রোহিঙ্গাদের দিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে বলেছেন।

স্থানীয় শ্রমিকরা বলছেন,আমাদের বাদ দিয়ে রোহিঙ্গা শ্রমিকদিয়ে বনবিভাগের সামাজিক বনায়নের কাজ করানো হচ্ছে,যা অত্যন্ত নিন্ধাজনক,তাদের(বনবিভাগ) কাজে আমাদের কোনো ধরনের সুযোগ দেওয়া হয় না,কিছু প্রভাবশালীদের সাথে বনবিভাগের কর্তারা যোগসাজশ করে কাজ করেন। আমরা চাই আমাদের দেশের কাজ,আমাদের বনবিভাগের কাজ আমাদের দিয়েই করানো হউক।

সচেতন মহল বলছেন,স্থানীয়দের বাদ দিয়ে রোহিঙ্গা শ্রমিকদিয়ে সামাজিক বনায়নের কাজ করা স্বাধীন বাংলাদেশে কতটুকু যৌক্তিক। আমরা এহেন গৃনিত কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। অতিশীঘ্রই রোহিঙ্গা শ্রমিকদের বাদ দিয়ে স্থানীয় শ্রমিকদের কাজে নেওয়ার জন্য দাবী জানাচ্ছি। অন্যতায় আমরা সামাজিকভাবে বনবিভাগ সহ সংলিষ্টদের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তুলব।

আগেরামু লম্বরীপাড়া দারুল কুরআন নূরানী একাডেমীর বার্ষিক সভা সম্পন্ন
পরেজায়েদই সাধারণ সম্পাদক, নির্বাচনী আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অবৈধ