
প্রেস বিজ্ঞপ্ত:
কোথাও যোগসাজশ আবার কোথাও দায়িত্বে অবহেলা অথবা কোথাও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে আতাত করে রাতের আধারে অবাধে চলছে সরকারি পাহাড়-টিলা জবরদখল বা পাহাড়কর্তন। পাহাড়-টিলা শ্রেণির সরকারি খতিয়ানভুক্ত জায়গা রাতের আধারে কেটে সমান করে অবৈধভাবে তৈরি করছে বসতবাড়ি। এসব অবৈধ জবরদখল ও পাহাড়কর্তন সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন, বন অধিদপ্তর এবং পরিবেশ অধিদপ্তরসহ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা সাধ্যমতো চেষ্টার পরও কিছু অসাধু স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের (মেম্বার-চেয়ারম্যান) এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশে থেমে নেই জবরদখল।
কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের মনিরঝিল ২ নং ওয়ার্ডের ইসলামপুর এলাকার খাস খতিয়ান ২২৭৩ নং দাগে অন্তর্ভুক্ত টিলা শ্রেণির একটি সরকারি জায়গা অবৈধ জবরদখলের একটি অভিযোগ চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে অনলাইন পোর্টাল “আজকের পেকুয়া” র প্রতিনিধিদের কাছে তথ্য প্রমান সহকারে প্রেস বিজ্ঞপ্তিআকারে আসার পর ৩ জানুয়ারি ২০২২ ইং সালে “রামুতে সক্রিয় পাহাড়খেকো সিন্ডিকেট” শিরোনামে সংবাদটি “আজকের পেকুয়া” অনলাইন পোর্টালে প্রকাশ করা হয়। উক্ত সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের বদৌলতে বন অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন এবং পরিবেশকর্মীদের দৃষ্টিগোচর হয়।
সূত্রমতে, বন অধিদপ্তর তাৎক্ষনাৎ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে ফোন করে বিষয়টি অবগত করেন।
এই ঘটনার কয়েকদিন পরেই চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে উক্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন কক্সবাজার জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শেখ মোঃ নাজমুল হুদা এবং চলতি বছরের মার্চ মাসে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন ইউএনও রামু উপজেলা প্রনয় চাকমা এবং রামু উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) রিগ্যান চাকমা। উনারা সকলেই এ ধরনের বেআইনী জবরদখল কার্যক্রম বন্ধের জন্য আল্টিমেটাম দিয়ে যান।
সূত্রমতে জানাগেছে, সরকারি কর্মকর্তাদের আল্টিমেটামকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিগত কিছুদিন যাবৎ সেই আলোচিত সরকারি খাস খতিয়ান ২২৭৩ দাগের টিলা শ্রেনির জায়গাটিকে কালো রঙের ত্রিপল দিয়ে ঘেরাও করে দস্যুরা রাতের আধারে কেটে সমান করে উক্ত স্থানে অবৈধভাবে পাকা বাড়ি নির্মানের চেস্টা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রীন এনভায়রনমেন্ট মুভমেন্ট কক্সবাজার জেলা শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদূর রহমান জানান, “গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তাদের আল্টিমেটাম থাকা সত্বেও এরা কোত্থেকে এত সাহস পায় তা আমার বোধগম্য নয়। তবে আমি স্বশরীরে গিয়ে ইউএনও রামু উপজেলা প্রনয় চাকমা এবং সহকারী কমিশনার(ভুমি) রামু উপজেলা রিগ্যান চাকমাকে বিষয়টি জানিয়ে এসেছি। ইউএনও মহোদয় এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।” উক্ত বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মনিরঝিল ২ নং ওয়ার্ডের প্রবীন মুরব্বী মোজাম্মেল জানান, “স্থানীয় প্রভাবশালীদের এবং জনপ্রতিনিধিদের যোগসাজশ না থাকলে তারা এ ধরনের সাহস দেখাতে পারবে বলে আমি মনে করিনা। আমি স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি”।
রামুর বিভিন্ন স্থানে পাহাড়খেকো সিন্ডিকেটকে দমনের জন্যও আহবান জানিয়েছেন পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিবর্গ।













