রামু-মরিচ্যা মহাসড়ক দৃশ্যমান! যাত্রীদের স্বস্তি

0
4

 

কফিল উদ্দিন রামু:

চলমান বর্ষা মৌসুমে একটু স্বস্তির নিশ্বাস ফেলবে রামু-মরিচ্যা সড়কের যাত্রীরা। বর্ষা মৌসুম আসলেই এই রুটের যাত্রীদের পড়তে হতো চরম ভোগান্তিতে। ১ বছর আগেও এই সড়কের প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়কে ছিলো অসংখ্য খানাখন্দ। অনেক সময় রাস্তার উপরেই তৈরি হতো ছোট খাটো পুকুর। রামু-মরিচ্যা মহাসড়কের চৌমুহনী স্টেশন থেকে ২ কিলোমিটার দক্ষিনে ব্রিটিশ ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সের ডাক বাংলো থেকে আলহাজ্ব ফজল আম্বিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত যেই সড়কটি রয়েছে সেই সড়কটি প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে অকেজো হয়ে পড়তো। দুর্ভোগে পড়ত লাখো মানুষ। বাঁকখালি নদীর অতিরিক্ত পানি এবং তীব্র স্রোত এসে আঘাত করতো এই জায়গাটিতে। রাস্তার পূর্ব পাশের বাধঁটি শক্ত না হওয়ার কারনে বারবার ভেঙ্গে যেতো সড়কটি। ফলে দুই পাশের মানুষের চলাচল হয়ে পড়তো চরম বাঁধার মুখে। কিন্তু এখন চিত্রটি হয়ে উঠেছে সম্পুর্ন ভিন্নরুপে।

২০২০ সালের মাঝামাঝি সময়ে ২৬৬ কোটি ১৬ লাখ ৬৮ হাজার ব্যয় ধরে সড়ক টির নির্মাণ কাজের ভিক্তি প্রস্থর স্থাপন উদ্ভোধন করেন কক্সবাজার সদর-রামু-ঈদগাওঁ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল । উদ্ভোধনের কিছুদিন পরই কাজ শুরু হয়। সড়কটিতে টানা কাজ চলার কারনে অনেকটাই দূর্ভোগ কমে আসে সাধারণ পথচারি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। তবে মাঝেমধ্যে কিছু বিপত্তি বাধেঁ যার কারনে কিছুদিন বন্ধ ছিল নির্মানকাজ। রাস্তাটির নিঁচু অংশ এখন মাটি দ্বারা উচু করা হয়েছে। বিশেষ করে ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সের বাংলো বাড়ি থেকে আলহাজ্ব ফজল আম্বিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কটি নিঁচু হওয়ায় মাটি দ্বারা ভরাট করে উঁচু করা হয়েছে।এখন এই অংশে পানি জমে থাকার সম্ভাবনা ও নেই। সড়কটি যেনো তীব্র স্রোতে আসা পানি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেই দিক বিবেচনা করে রাস্তার উভয়পাশে আর সিসি ব্লক বসানো হয়েছে। এই ব্লকগুলো যেমন কাজ করছে রাস্তা মজবুত করনে আবার অবদান রাখছে এই স্থানের সৌন্দর্য বর্ধনেও।

কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রামু-ফতেখাঁরকুল-মরিচ্যা সড়কটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কের রামু চৌমুহনী হতে ফতেখাঁরকুল হয়ে মরিচ্যা হয়ে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। সড়ক দু’টির দৈর্ঘ্য ১৬ দশমিক ৭২ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৩ দশমিক ৭ মিটার। এর মধ্যে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ১৪ দশমিক ২১৬ কিলোমিটার। সড়কটির পাশে ৮ কিলোমিটারের মধ্যে রামু সেনানিবাস এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ক্যাম্প অবস্থিত।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন,রামু-মরিচ্যা সড়কের যে ক’টি গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিলো তার মধ্যে ব্রিটিশ ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সের ডাকবাংলো থেকে আলহাজ্ব ফজল আম্বিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত একটি। এই কাজটি অনেক চ্যালেন্জিং ছিলো। ইতোমধ্যে আমরা এই কাজটি সম্পাদন করতে সক্ষম হয়েছি।

এই পথে নিয়মিত চলাচল করে উখিয়ার বালুখালি ক্যাম্পে কর্মরত মোহাম্মদ নোমান তিনি জানান- আমরা প্রতিবছর এই সড়কটি নিয়ে দূর্ভোগে পড়তাম। বর্ষাকাল আসলেই আমাদের চলাচলনে বিঘ্ন ঘটতো। রাস্তাটি ঠিক করায় আমরা অনেক খুশি। বর্ষাকালে আমাদের যাতায়াতে আর বাঁধা আসবেনা। আমরা নিশ্চিন্তে যেতে পারব আমাদের কর্মস্থলে।

আব্দুর রহিম(২৫) এই সড়কে প্রায় পাচঁ বছর ধরে নিয়মিত অটো চালান, তিনি বলেন বর্ষাকাল আসলে আমাদের পড়তে হতো চরম ভৌগান্তিতে,রামু-চৌমুহনীর সাথে প্রায় সময় যাতায়াত বন্ধ হয়ে যেতো বর্ষার পানির কারনে। চৌমুহনী স্টেশন থেকে পান্জেখানা স্টেশন পর্যন্ত যেতে সময় লাগতো ৩০/৪০ মিনিটের ও বেশি সময়। কিন্তু এখন রাস্তা নতুন করে সংস্কার করার কারনে ১০থেকে ১২ মিনিটের মধ্যে যাওয়া সম্ভব।

উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োজিত রানা বিল্ডার্সের প্রজেক্ট ম্যানেজার শাহ জালাল জানান, এই সড়কের কাজ প্রায় শেষের দিকে,কিছু অংশে জায়গা সংক্রান্ত সমস্যা থাকায় কাজ এতদিনে সমাপ্ত করা হয়নি এবং কিছুদিন কাজ বন্ধও ছিল,আমরা আশাবাদি আগামী একমাসের মধ্যে সকল কাজ সম্পন্ন হবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ভোধন করা হবে।

আগেকক্সবাজারে বন্ধুর খোঁজে গিয়ে ধর্ষিত হয়ে আত্মহত্যা: দুইজন গ্রেপ্তার
পরেপেকুয়ায় মাদক ব্যবসায়ীর হামলায় ওসি আহত