রামু চাকমারকুলের চেয়ারম্যান নুরুর অন্যায়,অনিয়ন-দূর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেই যাব: এইচ এম নুরুল আলম

0
4

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রামু উপজেলার চাকমারকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নুরুর অন্যায়, অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে অতিতের ন্যায় ভবিষ্যতেও সোচ্ছার ও প্রতিবাদী অবস্থানে অনড় থাকবেন বলেন প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক তরুন শিল্পপতি এইচ এম নুরুল আলম। তিনি এক বিবৃতিতে জানান, বিগত ইউপি নির্বাচনে তৃনমুল আওয়ামীলীগের সমর্থন এর উপর ভিত্তি জেলা আওয়ামীলীগ দলীয় মনোনয়নের প্রার্থী তালিকায় আমার নাম এক নাম্বারে রেখে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের কাছে প্রেরন করেন।পরবর্তীতে চেয়ারম্যান নুরু গং নানান ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে আমার কাঙ্গিত নৌকার মনোনয়নটি ছিনতাই করে। পরে আমি যখন ঢাকা থেকে এলাকায় যায় তখন চাকমারকুলের সর্ব জনতার উছ্ছ্বাস আমাকে আবেগ আপ্লুত করে। তারা আমাকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। তাদের আশার প্রতিফলন ঘটানোরে উদ্দেশ্যে আমি স্বতন্ত্র চেয়ারম্যাদ প্রার্থী হিসেবে ভোট করি। কিন্ত ভাগ্য আমার সহায় ছিল না। নুরুল ইসলাম তার লালিত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে কেন্দ্র দখল করে জাল ভোটের মাধ্যমে আমাকে মাত্র দুইশতাদিক ভোটে পরাজিত করে। অথচ তিনি বিপুল ভোটে জয়ী বলে মানুষের সামনে নিজেকে জাহির করেন।তিনি বলেন, চেয়ারম্যান নুরু বেশ কিছুদিন ধরে আমার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে আমার মানহানি ও ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। মুলত আমি নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এলাকার মানুষের সারতী হয়ে কাজ করে যাচ্ছি। তাদের নানা সুবিধা অসুবিধা সহ যাবতীয় সহযোগীতায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি। ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারী ও বেসরকারী দপ্তরের সাথে সমন্বয় করে এলাকার মানুষের সহায়তায় নিজের আপ্রান চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। পাশাপাশি চেয়ারম্যান নুরুর অন্যায় অবিচার, অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার আছি। যার কারনে আক্রোশের বশিভূত হয়ে আমার বিরুদ্ধে নানা মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে চেয়ারম্যান নুরু। তিনি চাকমারকুলের আপমর জনসাধারন চেয়ারম্যান নুরুর এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে বলে জানান। তিনি বলেন, নুরুল ইসলাম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর টাকার মোহে উদ্মাদ হয়ে উঠেছে।বানিজ্যিক কেন্দ্রে পরিনত করেছে ইউনিয়ন পরিষদকে ।তিনি গত নির্বাচনে জন্মনিবন্ধন ফি মওকুপ করা হবে বলে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিলেও সে ওয়াদা তিনি রক্ষা করেননি। এখন জন্মনিবন্ধন ফি নেয়া হচ্ছে আগের চেয়ে দ্বীগুন।

মূলত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সিকদারের নানা অপকর্ম, অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চচার ভূমিকার কারনে চেয়ারম্যান নুরুর রোষানলের শিকার নুরুল আলম।
নুরুল আলম বলেন, চাকমারকুল ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সিকদার এলাকায় একজন বালু খেকো হিসাবে পরিচিত। তাকে এলাকায় বালু দস্যু, ভুমিদস্যু,সংখ্যালঘু নির্যাতনকারী এবং মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রক হিসেবে মুখরোচক আলোচনা মানুষের মুখে মুখে।এমনকি একটি বালির মহাল নুরু চেয়ারম্যানের চর নামেও এলাকার মানুষের কাছে সমাদৃত। তার পুরো পরিবার এ সমস্ত অন্যায় অপকর্মের সাথে জড়িত।
চেয়ারম্যান নুরু একটি বালু মহালের ইজারা নিয়ে বাঁকখালীর ১০টির অধিক পয়েন্টে নিষিদ্ধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। সম্প্রতি এন আলম ফিলিং স্টেশনের দক্ষিন পার্শ্বে বাঁকখালী নদীতে তিনটি বড় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে লক্ষ লক্ষ টাকা বানিজ্য করেছে। এ নিয়ে জাতীয় দৈনিক কালের কন্ঠ সহ স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ হয়েছিল। তিনি চেয়ারম্যান হওয়ার পর টাকার মোহে নানা অনিয়ম-দূর্নীতিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।তার নিজস্ব সাঙ্গ পাঙ্গ ও গুন্ডাবাহীনির নানা অসামাজিক কর্মকান্ডে অতিষ্ট এলাকার সাধারন জনগন। তার ছত্রছায়ায় এলাকায় চলছে ইয়াবার রমরমা বানিজ্য। তার নতুন চর পাড়া এলাকাটি যেন ইয়াবায় ভাসছে। চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সিকদার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এসব ইয়াবা ব্যাবসায়ীর কাছ থেকে মাসিক মাসোয়ারা নিয়ে তাদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন নুরুল আলম। তিনি আরো জানান, চেয়ারম্যান নুরু পরিষদকে নিজের ব্যবসায়ীক প্রতিষ্টানে পরিনত করেছে। মোটা অংকের টাকা নিয়ে অসংখ্য রোহিঙ্গাকে ভোটার করিয়েছেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের ভুমিহীন সার্টিফিকেট দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সম্প্রতি রোহিঙ্গাকে প্রত্যয়ন দিয়ে ভোটারে সহায়তা করেছেন এমন চিত্র জনসম্মুখে প্রকাশ্য হলে চেয়ারম্যান নুরু নিজের দোষ ঢাকতে ইউপি সদস্যদের উপর দোষ চাপিয়ে দিচ্ছেন।

পরিষদে যে সমস্ত মেম্বার চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের অন্যায়-অনিয়মে সহযোগীতায় অপারগতা প্রকাশ করেন সে সমস্ত মেম্বারবৃন্দকে প্রতিনিয়ত লাঞ্চিত এমনকি মারধরের শিকার হতে হচ্ছে। ইতিপূর্বে তার অন্যায় অনিয়মে সাড়া না দেয়ায় পরিষদের এক চৌকিদারকে মারধর করে গুরতর জখম করেন।
এছাড়া ইউপি নির্বাচনে তার বিরোধি লোকজনকে পরিষদীয় সেবা থেকে বঞ্চিত করছে। নানা অজুহাতে তাদের সাথে র্দূব্যবহার সহ হেনস্থা করছে প্রতিনিয়ত। এমনকি প্রশাসনকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনকে নানাভাবে হয়রানী করে যাচ্ছে। চেয়ারম্যান নুরু মুলত কখনো সক্রিয়ভাবে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না। যে দল ক্ষমতায় আসে সে দলের কোলে উঠে ক্ষমতার ছায়াতলে থাকেন।
তার পিতা ছিলেন জাতীয় পার্টির নেতা। তার এক ভাই ছাতদলের ক্যাড়ার আর এক ভাই হেফাজত ইসলামের সাথে জড়িত। যিনি জোরপূর্বক একটি মাদ্রাসা দখল করে নানা অনিয়ন ও দূর্নীতি করে মাদ্রাসার সম্পদ তছরুপ করে যাচ্ছে দিনের পর দিন। মসজিদের মুসল্লীদের কেউ কোন বিষয়ে আপত্তি জানালে তাদের সাথে হেনস্থা ও র্দুব্যবহার করা হয়।বলৎকারের মামলাও হয়েছিল তার বিরুদ্ধে।
মুলত নুরু আওয়ামীলীগের ছত্রছায়ায় থেকে নিজের প্রভাবকে পাকাপোক্ত করে কোটি কোটি টাকার পাহাড় গড়ে যাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যা, ডাকাতি ও ধান কাঠা সহ অসংখ্য মামলা।
চেয়ারম্যান নুরু একটি অভিযোগে আমার বিরুদ্ধে দুদকে মামলার কথা বলে চরম মিথ্যাচার করেছেন। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে চাই আমার বিরুদ্ধে দুদকে শুধু নয় একটি সিআর বা জিআর মামলাও দেখাতে পারলে পুরস্কৃত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। আমি ছাত্রজীবন থেকে পোল্ট্রি দিয়ে আমার ব্যাবসা জীবন শুরু। সেই থেকে আমার কঠোর পরিশ্রম, চেষ্টা, সততা ও মানুষের দোয়া-ভালবাসা দিয়ে এই পযন্ত এসেছি। বাংলাদেশের প্রথম সারির সংবাদ মাধ্যম প্রথম আলো আমাকে নিয়ে ছাত্রজীবনে সাবলম্বী শীর্ষক বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। চেয়ারম্যান নুরু আমাকে বালু ও মাটির ব্যবসার সাথে জড়াতে চাচ্ছেন যা আমাকে তার সারিতে নামার শামিল। নুরুল আলম একজন জাতীয় পদার্থ ও জ্বালানী তেল-এলপিজি ব্যবসায়ী। সুতরাং পঁচা শামুকে পা দেয়ার প্রয়োজনীতা মনে করছিনা।
অতিতে চেয়ারম্যান নুরু ও তার পরিবারের অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পেত না। মুলত আমরা প্রতিশ্রুতিশীল কিছু মানুষ এলাকার নানা অসঙ্গতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার কারনে নুরুল আলম এবং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালাচ্ছে নুরু গং। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড যেমন কাবিকা,এলজি এসপি,১% সহ নানা উন্নয়ন কাজে অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে তারা জনসম্মুখে প্রতিবাদ করে যাচ্ছে। যার কারনেই ক্ষিপ্ত ও চরম ক্ষোভের বশিভূত হয়ে তাদের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান নুরুর এ হীন কর্মকান্ড বলে অভিমত ব্যক্ত করে বলেন,
চেয়ারম্যান নুরু প্রথমবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার ২০-৪০ জন অসহায় লোকজনের নামে কৃষি ব্যাংক রামু শাখা থেকে ঋন নিয়ে নিজেই সব টাকা আত্মসাত করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগিরা নিজের ভিটেমাটি ও গরু ছাগল বিক্রি করে উক্ত লোন শোধ করেন। অধ্যবদি অসহায় মানুষগুলো চেয়ারম্যানের দ্ধারে দ্বারে ঘুরছেন তাদের প্রাপ্য টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে। এছাড়া তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও এলাকার স্বচ্ছল ব্যক্তিদের কাছ থেকে নানা অজুহাতে টাকা ধার নিয়ে আত্মসাৎ করেছে বলে এমন অভিযোগও অহরহ। এমনকি কোরবানীর গরু ক্রয় করে টাকা না দেয়ার নজির রয়েছে নুরুর বিরুদ্ধে। এদিকে চেয়ারম্যান নুরুর নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে ইউএনও, ডিসির বরাবরে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমানাদি সহকারে দূর্নীতি দমন কমিশন(দুদক) বরাবরে অভিযোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান।

নিজের ব্যবসার পাশাপাশি এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড যেমন শিক্ষা প্রতিষ্টান প্রতিষ্ঠা  রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ মানুষের সেবায় নিজের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। মুলত আমার প্রতি সাধারন মানুষের অকুন্ঠ ভালবাসা নুরু গংয়ের ঈর্ষার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। এব্যাপারে নুরুল আলম চাকমারকুল এলাকার জনসাধারনকে চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের মিথ্যা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থাগ্রহনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এইচ এম নুরুল আলম।

আগেমোয়াজ্জিন(সহকারী ইমাম) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
পরেভারতে মহানবী (স.) কে কটূক্তির প্রতিবাদে টেকনাফে বিক্ষোভ সমাবেশ