
নিজস্ব প্রতিবেদক :
কক্সবাজারের রামু উপজেলার রাজারকুলে ডেইলপাড়ায় এক সিএনজি চালককে
অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপহৃত জামাল (২৭)পিএমখালীর ৬নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাতেলী এলাকার নুরুল হুদার ছেলে,সে বর্তমানে রাজারকুল ৩নং ওয়ার্ডের ডেইলপাড়ায় বসবাস করে।
গত ১১ জুলাই (সোমবার)ঈদুল আযহা’র পরের দিন রাত ১০টায় এই অপহরণের ঘটনা ঘটে।
অপহরণকারীরা হলো,১।সাইফুল ইসলাম প্রকাশ কাজল,পিতা ইলিয়াছ, সাং পশ্চিম সিকদার পাড়া ৩নং ওয়ার্ড, রাজারকুল রামু।২।সাইফুল ইসলাম,পিতা মীর জাফর,সাং পশ্চিম সিকদার পাড়া ৩নং ওয়ার্ড, রাজারকুল-রামু।৩।সাকিব পিতা ইয়াকুব,হালদার পাড়া ২নং ওয়ার্ড, রাজারকুল-রামু।৪।কায়সুর রহমান প্রকাশ আপেল, পিতা আবুল হোসেন প্রকাশ মুছা আবুলু,সিকদার পাড়া ৪নং ওয়ার্ড, রাজারকুল-রামু।৫।সোলাইমান,পিতা আব্দুল গফুর,উমখালী ২ নং ওয়ার্ড,দক্ষিণ মিঠাছড়ি-রামু।৬।জয়নাল,পিতা,আবু সৈয়দ, হালদারকুল ২নং ওয়ার্ড,রাজারকুল-রাম।
অপহৃত জামাল উদ্দিন স্ত্রী নাঈমা জানান,ঈদের পরের দিন রাত ১০টায় সাইফুল ইসলাম প্রকাশ কাজল বাড়িতে এসে আমার স্বামী জামাল কে জরুরী কথা আছে বলে ঘর থেকে বাহির করে।পরে ২থেকে ৩ ঘণ্টা পর আমার স্বামীর মুঠোফোন থেকে আমার মোবাইলে কল আসলে আমি রিসিভ করার সাথে সাথে আমার স্বামী জামালের কান্নাকাটি শুনি।একপর্যায়ে অপহরণকারীদের মধ্যে একজন বলে উঠে তোমার স্বামীকে জীবত ফেরত পেতে হলে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে,না দিলে তোমার স্বামীকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে,এই বলে কল কেটে দেয়।এরপর থেকে আমি মোবাইলে কল দিলে আর রিসিভ করেনা।পরের দিন ফজরের নামাজের পর আমার স্বামী জামাল রক্তাক্ত অবস্হায় বাড়ির আঙ্গিনায় এসে একটা ডাক দিয়ে মাটিতে পড়ে যায়।আমি আওয়াজ শুনে দরজা খুলে দেখি আমার স্বামী জামাল মাটিতে পড়ে আছে,দ্রুত তাকে মাটি থেকে তুলে ঘরে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ১৪ জুলাই (বৃহস্পতিবার) রামু থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন- অপহৃত জামাল উদ্দিন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে-গত ১১ জুলাই রাত ১০টার দিকে অপহরণ চক্রের সাইফুল ইসলাম প্রকাশ কাজল(পূর্ব পরিচিত) আমাকে ঘর থেকে জরুরী কথা আছে বলে বাড়ির পাশের রেললাইনে নিয়ে যায়।পরে কথার একপর্যায়ে ৬/৭জন লোক আমাকে দেশীয় অস্ত্র ঠেকিয়ে আমার মুখ বেঁধে একটি সিএনজিতে তুলে গহীন জঙ্গলের একটি ঝুপড়ি ঘরে নিয়ে বেঁধে রাখে,এবং আমাকে বেধড়ক মারধর করে বলে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে,না দিলে আর প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারবি না।একপর্যায়ে তারা আমার মোবাইল নিয়ে আমার বউয়ের কাছে কল দিয়ে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে,এবং না দিলে প্রাণে মারার ভয় দেখিয়ে মোবাইল কেটে দিয়ে আমাকে ঝুপড়ি ঘরে রেখে বাহিরে চলে যায়।এই সময়ে আমি অনেক কষ্ট করে বাঁধন খোলে কোনরকম প্রাণ বাঁচিয়ে ঘরে ফিরে আসি।সেইদিনে আমরা এবিষয়ে রাজারকুল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আমাদের ওয়ার্ডের মেম্বারকে অবগত করি। এরপর থেকে অপহরণকারীরা মোবাইলে কল দিয়ে আমাদের নানান প্রকার হুমকি-ধামকি দিচ্ছে, এবং আইনের আশ্রয় নিলে প্রাণনাশের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। আমাদের জানমাল রক্ষায় কোন উপায় না পেয়ে আমরা আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছি।
জানা যায়,অপহরণকারী চক্রের অন্যতম সদস্য সাইফুল ইসলাম কাজল একজন মাদক ব্যবসায়ী, সে ট্রাকে করে ইয়াবা পাচারকালে ২০ হাজার ইয়াবাসহ পটিয়া থানায় আটক হয়েছিল।অপহরণ চক্রের অন্যান্য সদস্যরাও মাদক কারবারী, মাদক সেবনকারী ও এলাকার চিহ্ন অপরাধী।তাদের নেতৃত্বে এলাকায় নানান প্রকার অপরাধ কর্মকাণ্ড ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জামাল উদ্দিন ও তার পরিবার তাদের জানমাল রক্ষায় ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার সহ রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা’র( ওসি)সহযোগীতা কামনা করেছেন।













