
সিবিকে:
চকরিয়ার সুমাইয়া (ছদ্মনাম)। স্বামী সৌদি আরব প্রবাসী। তার বাড়ির পাশে জনৈক তৌহিদের মুদি দোকান থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় করতেন। নিয়মিত বাজার সদাই করতে গিয়ে সখ্যতা গড়ে উঠে তাদের মধ্যে। সেই সখ্যতার জের ধরে সুমাইয়া বাড়ির পাশের একটি জমি ক্রয় করার জন্য টাকার অভাবে পড়ায় তৌহিদের কাছে ৫০ হাজার টাকা ধার চান। সুমাইয়াকে টাকা ধার দিতে রাজিও হয় তৌহিদ এবং টাকা নেয়ার জন্য চকরিয়ার ওশান সিটি মার্কেটে আসতে বলে।
কথা মতো সুমাইয়া টাকা নেয়ার জন্য এলে তৌহিদ জানায় একটি কাগজে স্বাক্ষর করতে হবে। পরবর্তীতে তৌহিদ ভিকটিমকে কাগজে স্বাক্ষর করার জন্য তৃতীয় তলার আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ভিকটিমকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং হোটেল রুমে বসানো গোপন ক্যামেরায় ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে।
পরবর্তীতে তৌহিদ ধর্ষণের ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময় সুমাইয়াকে বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে তৌহিদ সুমাইয়ার নিকট মোটা অংকের টাকা দাবি করে। কিন্তু ভিকটিম টাকা দিতে অস্বীকার করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তৌহিদ ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। কক্সবাজারের চকরিয়ায় ধর্ষণ ও নাশকতা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি মো. তৌহিদুল ইসলাম ফরহাদকে (২৮) গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের কথা জানিয়েছে র্যাব।
রোববার (১৭ জুলাই) কক্সবাজারের চকরিয়া থানার বার আউলিয়া নগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে র্যাব।
গ্রেপ্তার তৌহিদ ওই এলাকার জসিম উদ্দিনের ছেলে।
জানা গেছে, গত বছরের ১৪ জুলাই প্রথমবার ধর্ষণ করা হয় সুমাইয়াকে। একই বছরের ১৮ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেন তৌহিদ। এ ঘটনায় সুমাইয়া বাদী হয়ে ৩১ আগষ্ট কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নূরুল আবছার সিভয়েসকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আসামি তৌহিদ এলাকায় একজন চিহ্নিত অপরাধী। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার কথা অকপটে স্বীকার করেছে। ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস) পর্যালোচনা করে তার বিরুদ্ধে কক্সবাজারের চকরিয়া থানায় ধর্ষণ, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৫টি মামলা পাওয়া যায়। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’













