
সাংবাদিকতা পেশাকে কটুক্তি করেছেন মহেশখালীর ইউএনও মোঃ ইয়াছিন।
শনিবার (২২ অক্টোবর) মহেশখালী উপজেলা হলরুমে মহেশখালী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত উপকূলীয় এলাকার মহেশখালীর লবণ চাষীদের সাথে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এর মতবিনিময় সভা শেষে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিকের সামনেই সাংবাদিকতা পেশা ও সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন ইউএনও ইয়ছিন।
এসময় ইউএনও মোঃ ইয়াছিন উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকদের নিয়ে নানা মন্তব্য করতে থাকলে তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেন এমপি। এসময় এমপিকেই নানা প্রশ্ন করতে থাকে মোঃ ইয়াছিন। তিনি বলেন, হোয়াট ইজ সাংবাদিক? কেনো দাওয়াত দিতে হবে তাদের? দাওয়াত ছাড়া আসলে আসবে না আসলে নাই। এ বিব্রতকর অবস্থায় স্থানীয় এমপি আশেক উল্লাহ রফিক অনেকটা অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকেন সেখানে।
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপকূলীয় এলাকার লবণ চাষীদের নিয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশনের (বিসিক) এর এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক এমপি, জেলা আ.লীগের নেতৃবৃন্দ ও বিসিকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। অবহেলিত লবণ চাষীদের নিয়ে এতো বড় আয়োজন অথচ এ বিষয়ে কিছুই জানেন না উপজেলার সাংবাদিকরা। রহস্যজনক কারণে দাওয়াতও দেওয়া হয়নি কাউকে। যথারীতি প্রোগ্রাম শেষ হলো বিকেল ৩টার দিকে।
এই অনুষ্ঠান শেষে মহেশখালীর লবণ পান চিংড়িসহ উপকূলীয় অঞ্চলের এইসব প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে এই আয়োজন থেকে বিসিক কি উদ্যোগ নিয়েছে তা বাইরে অপেক্ষারত সাংবাদিকরা বিসিকের নেতৃবৃন্দের কাছে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের অবজ্ঞা করে কিছু বলতে দেননি নেতৃবৃন্দের। স্থানীয় এমপি ও জেলা আ.লীগের নেতৃবৃন্দের সামনেই সাংবাদিকদের অবজ্ঞা করে বিসিক কর্মকর্তাকে গাড়িতে তুলে চলে গেলেন তিনি। রীতিমতো সাংবাদিকদের অপমান করায় সেখানেই দুঃখ প্রকাশ করেন সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক। অল্পকিছু সময় পর ফের উপজেলা হলরুমের সামনেই ফিরে আসে ইউএনও।
এ সময় এমপি আশেক উল্লাহ রফিক ইউএনও ইয়াছিনকে সাংবাদিকদের সাথে সমন্বয় করে সামনের প্রোগ্রাম আয়োজন করার পরামর্শ দিলে হঠাৎ মুখের ওপর ইউএনও বলে উঠেন হোয়াট ইজ্ সাংবাদিক? কেনো দাওয়াত দিতে হবে? দাওয়াত ছাড়া আসলে আসবে না আসলে নাই। এমপিকে পাল্টা প্রশ্ন করায় অনেকটা বিব্রত হয়ে পড়েন তিনি।
এ নিয়ে চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছে মহেশখালীর সকল সাংবাদিক। এ ঘটনার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইউএনও ইয়াছিনকে নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে নানা বিতর্কিত পোস্ট করছেন অনেকে। পরদিন এ অপ্রত্যাশিত আচরণের প্রতিবাদে ২৩ অক্টোবর দুপুরে উপজেলা সড়কে সমবেত হয় মহেশখালীর কর্মরত সাংবাদিকরা। সাংবাদিকদের নিয়ে ইউএনও’র এমন অপ্রত্যাশিত আচরণের প্রতি নিন্দা জানিয়েছেন জেলা ও উপজেলার সিনিয়র সাংবাদিকরা।
এ ঘটনায় মহেশখালী প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের প্রতিনিধি মাহবুব রোকন জানান, ইউএনও ইয়াছিন আসার পর থেকেই সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গণমাধ্যম থেকে আড়াল করে রেখেছেন। রহস্যজনক কারণে গত পরশুর বিসিকের প্রোগ্রামটিও সাংবাদিকদের দাওয়াত না দিয়েই শেষ করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা তথ্য নিতে উপজেলা হলরুমের সামনে গেলে ইউএনও ইয়াছিন সাংবাদিকতা পেশা ও সাংবাদিকদের নিয়ে নানা আপত্তিজনক মন্তব্য করেছেন। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
প্রতিবাদ সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, মহেশখালীতে সরকারের মেগা প্রকল্প সহ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার নানান উদ্যোগ নিয়েছেন এবং এখনো উন্নয়ন কাজ চলমান। তাছাড়া এখানে বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী সংস্থা কাজ করছে। আর এখানকার মানুষ নানান ভাবে সরকারী প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিত। কিন্তু এসব তথ্য সাংবাদিকদের জানায় না উপজেলা প্রশাসন। তারা গোপনে বিভিন্ন মিটিং, সমাবেশ, সেমিনার সম্পন্ন করেন। যার কারণে প্রকৃত উন্নয়নের তথ্য মানুষের নাগালে পৌঁছায়না।
সমাবেশ থেকে সাংবাদিক নেতারা সাংবাদিক পেশা নিয়ে ইউএনও’র আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে চার দফা দাবী উত্থাপন করেন।
দাবী গুলো হলো- চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে ইউএনও’কে ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের যাবতীয় ইতিবাচক সংবাদ বর্জন করা হবে, ২৫ অক্টোবর সর্বস্তরের সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের সমন্বয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করা হবে। ২৭ অক্টোবর কক্সবাজার জেলা সদরে মানববন্ধনের পর জেলা প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্ট দফতরে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে বলে জানান তারা।













