কক্সবাজারে পাহাড় কেটে সাবাড় ১০তলা বিল্ডিং নির্মাণ!

0
5

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
যেখানে কক্সবাজার হোটেল-মোটেল ও কটেজ জোন এলাকায় অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত প্রশাসনের অভিযান অব্যহত রয়েছে সেখানে আবার পাহাড় কেটে একটি দশ তলা বিল্ডিং নির্মাণের কাজ শুরু করেছে গফুর নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়ায় হোটেল লেগুনা বিচ রোড, সৈকত পাড়ায় বিশালাকার পাহাড়টি কেটে কিছু অংশ সাবাড় করে সমতল ভূমিতে পরিণত করে বিল্ডিংটি করায় একদিকে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা ও অপরদিকে চরম হুমকির মুখে পড়েছে এ পাহাড়টি। সংরক্ষিত বন ঘোষিত এলাকায় পাহাড় ঘেঁষে এভাবে র্নিলিপ্তভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ করায় আশ্চর্য হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। এ নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি নির্মাণাধীন ভবনের লাগোয়া রয়েছে কউক এর মাস্টার প্ল্যানের আওতাভুক্ত একটি সড়ক তাই সরকারি জায়গায় এই অবৈধ ভবন বন্ধে দ্রুত জেলা প্রশাসক ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলা প্রশাসন এর ১নং খাসখতিয়ান ও বনবিভাগ এর জায়গায় সুউচ্চ বিশালাকার পাহাড়টি কেটে কিছু অংশ সাবাড় করে সমতল ভূমিতে পরিণত করে। বর্তমানে এটির কিনার ঘেঁষে ফাইলিং করে বহুতল বভন নির্মাণ কাজ শুরু করেছে গফুর। সব সরঞ্জাম মজুদ করা হয়েছে এবং পিলারেরর জন্য বড়ো বড়ো গর্ত করা হচ্ছে। কিছু দিন ধরে রাতদিন শ্রমিক দিয়ে তাড়াহুড়া করে নির্মাণ কাজ চালানো হচ্ছে। সাংবাদিকরা প্রবেশ করতে চাইলে গেইট বন্ধ করে দেয় এবং বাঁধা সৃষ্টি করে। উপস্থিত মিস্ত্রি ও দারোয়ানরা ফোন দিয়ে তাৎক্ষণিক খবরাখবরি দেয় গফুরকে। বলেন তাঁর সাথে দেখা করতে। কিন্তু একদিকে জায়গাটি খাস, অন্যদিকে নেই উন্নয়ন কর্তপক্ষের অনুমোদন। অনমোদন বিহীন মনগড়া নির্মাণাধীন এই ভবনে মানা হচ্ছে না বিল্ডিং কোডের কোনো নিয়মও।

স্থানীয় সচেতন মহল বলেন, সুউচ্চ বিশালাকার পাহাড়টির পাদদেশে ফাইলিং দিয়ে বহুতল ভবনটি করলে যে কোন মুহুর্তে পাহাড় ধ্বসে জানমালের বড়ো ক্ষয়ক্ষতি হবে। এছাড়া প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা এধরনে বহুতল বভন নির্মাণ তা দেখে তাঁরা প্রতিনিয়ত থ বনে গেছেন।

তথ্য সূত্রে জানা গেছে, এটি খাস জায়গা হলেও অন্য স্থানের দাগের দলিল দেখিয়ে এই জায়গাটিকে দাবি করা হচ্ছে খতিয়ানভুক্ত। মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে কউকের অনুমোদনকে বুদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই অবৈধ ভবন নির্মাণে সহযোগিতা করে যাচ্ছে স্থানীয় মধ্যসত্বভোগী কিছু দালাল। জেলা প্রশাসন ও কউক যদি এটি আইনগত চ্যালেজ্ঞ করে তাহলে সব জালিয়াতি বের হয়ে আসবে বলে জানান আশপাশের লোকজন।
এই নির্দেশ ১১ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। উচ্ছেদের পরিবর্তে উলটো প্রতিনিয়ত পাহাড় ও বনাঞ্চল উজাড় করে কর্মচারীদের বসতি নির্মাণের কাজ চলছে।

সূত্রমতে, ১৯৯৯ সালে কক্সবাজারের কলাতলীসংলগ্ন ঝিলংজা মৌজার ১২৪ একর এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করে সরকার। সরকার প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণার পরও এ এলাকায় প্রতিনিয়ত পাহাড় কেটে দখল ও বসতবাড়ি নির্মাণ হচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারে পাহাড় কাটা বন্ধে ২০০৬ সালে হাইকোর্টে রিট মামলা করে তারা। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২০১১ সালের ৮ জুন জেলা প্রশাসনের ওই প্রকল্পের বরাদ্দ বাতিল, পাহাড়ের কোনো অংশ না কাটা, রক্ষিত বন এলাকায় সব ধরনের স্থাপনা উচ্ছেদ করা এবং বন ধ্বংস না করার আদেশ দেন। পরে আদালতের এ রায় বাস্তবায়িত না হওয়ায় তৎকালিন ১২ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করে বেলা। আদালত কক্সবাজারের তৎকালীন জেলা প্রশাসক রুহুল আমিনকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। ২০১৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির হয়ে সময় প্রার্থনা করেন তিনি। এ সময় তিন মাসের মধ্যে সব স্থাপনা উচ্ছেদ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের অঙ্গীকার করেন জেলা প্রশাসক। কিন্তু এক যুগেও আদালতের কাছে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি।

এ ব্যাপারে নির্মাণাধীন ভবন মালিক গফুর এর সাথে মুঠোফোনে যেগাযোগ করে বিল্ডিংটি নির্মাণে আইনগত কতটুকই ভিত্তি আছে জানতে চাইলে তিনি দেখা করবে বলেন। তবে জায়গাটি খাস নয় বলে দাবি করেন। কউকের অনুমেদন ছাড়া বহুতল নির্মাণ করা হচ্ছে, তা জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

এ বিষয়ে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর মোহাম্মদ নুরুল আবছার বলেন, ”কক্সবাজার হোটেল-মোটেল ও কটেজ জোনে যে অবৈধ স্থাপনা গুলো গড়ে উঠেছে আমরা ক্রমান্বয়ে সবগুলো উচ্ছেদ কররবো। এছাড়া বিল্ডিং কোড আমান্য করে কোন ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। এছাড়া বিল্ডিং কোড অমান্য করে সরকারি জায়গায় যে ভবনটি নির্মাণ এর কথা শুনতেছি এটি সরাজমিনে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে”।

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো: মামুনুর রশীদ জানান, সরকরি জায়গায় কোন অবৈধ স্থাপনা উঠতে দেওয়া হবে না। অবৈধভাবে বিল্ডিংকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আগেনির্বাচনি খেলা আর নয়, রুখে দেব: ফখরুল
পরেবাঁকখালী নদীর বুকে উড়ছে ব্রাজিলের পতাকা