
শিপ্ত বড়ুয়া:
অন্ধকারের বিপরীতে আলোর অবস্থান সুদৃঢ়। তেমনি রাজারকূল গ্রামের নিগূঢ় অন্ধকারের বিপরীতে দাঁড়িয়ে জ্ঞানের আলো জ্বালছে জ্ঞানান্বেষণ পাঠাগার। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া এই প্রতিষ্ঠানের ছয় বছরের যাত্রায় পাঠাগার কক্ষে যুক্ত হয়েছে নিত্য-নতুন সুযোগ-সুবিধা।
সংগঠকদের মধ্যে সহ-সভাপতি পিয়াল বড়ুয়া বলেন, কেবল বইয়ের পাতাতেই সীমাবদ্ধ নেই পাঠাগার’র কার্যক্রম। প্রযুক্তির এই যুগে সামাজিক সহযোগিতা, ইনডোর গেমস, উচ্চ গতির ইন্টারনেট, দৈনিক পত্রিকা ও কম্পিউটার যুক্ত করেছে নতুন মাত্রা। তাছাড়া প্রতি সপ্তাহে পাঠচক্র, নৃত্য, তবলা, হারমুনিয়াম, বেহালা, দুতারা ও আবৃত্তির ক্লাস চলছে।
বৃহস্পতিবার সরজমিনে দেখা গেছে, পাঁচ হাজারের অধিক গল্প, উপন্যাস, কবিতা, বিজ্ঞান, ইতিহাস, বিদেশী সাহিত্যসহ নানান বইয়ের সমাহার এখানে। শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে রয়েছে চাইল্ড ফ্রেন্ডলি স্পেস, যেখানে মনের আনন্দে শিশুরা ব্লক দিয়ে ইচ্ছেমতো বিভিন্ন কিছু তৈরি করেন। খেলতে খেলতে ইংরেজী শব্দ শিখতে পারছেন স্ক্রাবেল নামের শিশু খেলনা দিয়ে।
এদিকে পাঠাগার’র ক্রীড়া সম্পাদক জিতু বড়ুয়া বলেন, চিত্ত বিনোদনে সপ্তাহের শুক্রবারে বড় পর্দায় এলাকার সাধারণ মানুষকে সিনেমা দেখানোর আয়োজন করা হয়। সূর্যসেন-প্রীতিলতা সিনেমা সংসদ নামে এই আয়োজন হয়। তাছাড়া বিশ্বকাপ ফুটবলের আমেজ বাড়াড়েও বড় পর্দায় খেলা দেখানো হচ্ছে।
জ্ঞানান্বেষণ পাঠাগারের সভাপতি আব্দুল মান্নান জানান, সকাল দশটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত সময় বণ্টন করে এখানে দায়িত্ব পালন করেন তিনজন লাইব্রেরিয়ান। সম্প্রতি বই পড়াকে আরও ত্বরান্বিত করতে ভ্রাম্যমান বই ছড়ানোর কাজও করছেন জ্ঞানান্বেষণ পাঠাগার। তাছাড়া বছরজুড়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পাঠচক্র, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, অঙ্কন, রচনা প্রতিযোগিতাসহ নানান খেলাধুলার আয়োজন থাকে পাঠাগার মাঠে।
পাঠাগার’র নিজস্ব দশ শতক জমিতে দ্বিতল ভবনের কাজ শুরু হলেও বর্তমানে অর্থাভাবে থমকে গেছে। পাঠাগার’র আরেক অন্যতম সংগঠক অজয় বড়ুয়া জানান, মূলত দ্বিতল ভবনের পরিকল্পনা করেই পাঠাগার’র ফাউন্ডেশন দেওয়া আছে। নিচতলায় বিশাল পাঠকক্ষ ও ইনডোর গেমস এবং দুতলায় হাইটেক পার্ক নির্মাণ করা হবে। এতে করে শত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের দারুণ সম্ভাবনার কথাও বলেন এই সংগঠক।
এদিকে জ্ঞানান্বেষণ পাঠাগার’র কার্যক্রম নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা মুস্তফা। তিনি বলেন, হেমন্ত বরণের মধ্য দিয়ে খুব কাছ থেকে দেখেছি এই পাঠাগারের কার্যক্রম। পাড়াকেন্দ্রিক বই পড়া ও খেলাধুলাসহ সামাজিক কাজের এমন আয়োজন অনন্য। জ্ঞানান্বেষণ পাঠাগারের সুষ্ঠু কার্যক্রমে উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার রাজারকুল গ্রামের জ্ঞানান্বেষণ পাঠাগার বদলে দেবে উপজেলার সাধারণ মানুষের জীবনমান। হাইটেক পার্কের মাধ্যমে উন্মুক্ত হবে হাজারো যুবকের স্বাবলম্ভী হওয়ার দুস্বাধ্য স্বপ্ন এমন প্রত্যাশা সংগঠকদের।













