রামুতে চোরাই গরু প্রতি পুলিশকে দিতে হয় দুই হাজার

0
9

 

হাসান তরেক মুকিম,রামু

কক্সবাজারের রামুর গর্জনিয়া বাজার যেন চোরাই গরুর হাট। স্থানীয় পুলিশ ও বাজার ইজারাদারের যোগসাজসে বৈধতা পাচ্ছে এসব চোরাই গরু।চোরাই গরু বৈধতা পেতে সিন্ডিকেটকে গরু প্রতি গর্জনিয়া পুলিশকে দুই হাজার ও ইজারার নামে দিতে হচ্ছে দুই থেকে চার হাজার টাকা। উক্ত টাকা প্রশাসনের সকল দপ্তরে বিলিবন্টন হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

জানা যায়, মিয়ানমার থেকে গরু আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলা রামুর কচ্ছপিয়ায় বানের পানির মত অবাধে ঢুকছে চোরাই গরু। স্থানীয় কয়েকটি চিহ্নিত সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে এসব চোরাই গরু ঢুকছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এদিকে গরু পাচারের পাশাপাশি প্রচুর পরিমানে ইয়াবাও ঢুকছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের আশারতলী, ফুলতলী, লম্বাশিয়া, চাকঢালা, সোনাইছড়ি ও দোছড়ির পয়েন্টের চোরাই পথ দিয়ে গত ৩ মাস ধরে অবৈধভাবে হাজার হাজার চোরাই গরু ঢুকছে। গরুগুলো প্রথমে কচ্ছপিয়ার বিভিন্ন এলাকায় জমা করে রাখা হয়। পরবর্তীতে গর্জনিয়া বাজারে গরুগুলোকে তোলার পর পুলিশকে দুই হাজার ও ইজারার নামে ২-৪ হাজার দিয়ে রশিদের মাধ্যমে দেশীয় গরুর ন্যায় চোরাই গরু বৈধ করা হয়। পরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।

প্রতিদিন হাজারের অধিক চোরাই গরু ঢুকছে নাইক্ষ্যংছড়ি ও রামুর বিভিন্ন এলাকায়। অবৈধ পন্থায় এসব চোরাই গরু ঢোকায় স্থানীয় খামারিরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। পাশাপাশি সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব। সীমান্তের পাহারায় নিয়োজিত বাহিনীর তৎপরতা থাকলেও কোনভাবে রোধ করা যাচ্ছে না গরু পাচার।

খুরুস্কুল এলাকার শামশুল আলম জানান,  পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য গর্জনিয়া বাজার থেকে একটি গরু ক্রয় করেন, এজন্য তার কাছ থেকে গর্জনিয়া পুলিশের কথা বলে ২ হাজার ও ইজারার কথা বলে ২ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।

রামু ফতেখাঁরকুলের ফিরোজ আহমদও একই অভিযোগ করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কচ্ছপিয়ার এক ব্যবসায়ী জানান, সীমান্ত দিয়ে আসা চোরাই গরুগুলো মানুষের বসতবাড়ির আঙ্গিনা ও গোয়াল ঘরে জমা করে রাখা হয়। পরবর্তীতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশের নিজস্ব সোর্স ও ইজারাদারের লোকজন গরুর সংখ্যা অনুযায়ী টাকা আদায় করেন। 

জানতে চাইলে কচ্ছপিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইসমাঈল মোঃ নোমান মিয়ানমার থেকে চোরাই গরু প্রবেশের কথা স্বীকার করে অভিযোগের বিষয়টি এড়িয়ে যান।

রামুর গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মাসুদ রানার কাছে জানতে চাইলে অনেকটা হতভম্ব সুরে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। বিস্তারিত জানতে তার অফিসে যোগাযোগ করার কথা বলে ফোন কেটে দেন।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) ফাহমিদা মুস্তফা জানান, তিনি ঢাকায় একটি ট্রেনিংয়ে আছেন। এব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানান।

আগেনাইক্ষ্যংছড়ির তুলাতলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদায় অনুষ্ঠান ও অভিভাবক সমাবেশ
পরেরামুতে বাকপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধাকে ফুসলিয়ে জমি রেজিস্ট্রির অভিযোগ