
হাসান তারেক মুকিম:
কক্সবাজারের রামুতে পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে পাহাড় কেটে বানানো হচ্ছে সড়ক। স্কেভেটর দিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের দুপাশের খাড়া পাহাড় কেটে এসব মাটি সড়ক মেরামতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়াও অর্থ সাশ্রয়ে পার্শ্ববর্তী একাধিক পাহাড় থেকে মাটি কেটে সড়কের ভরাট কাজ করা হচ্ছে।
এদিকে পাহাড় কেটে সড়ক নির্মাণ করতে গিয়ে অসংখ্য ছোট-বড় গাছ কাটা পড়েছে। উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের লট উখিয়ারঘোনা ঝর্নামুড়া সড়ক নির্মাণে সাব-কন্ট্রাক্টর সুলতান আহমদ বাহাদুর প্রকাশ বাবুর বিরুদ্ধে এ অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে।
পাহাড় কেটে রাস্তা নির্মাণ করে গেলেও স্থানীয় প্রশাসন ও বনবিভাগের কোন প্রকার হস্তক্ষেপ নেই।
এদিকে পাহাড় কেটে সড়ক নির্মাণ করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পরিবেশবাদি সংগঠনগুলো।
সরজমিনে পরিদর্শন ও এলাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, সমতল থেকে প্রায় ৫শত ফুট উঁচু পাহাড়ের বুক চিরে ১০ ফুট প্রসস্থ্য ও প্রায় এক কি:মি: দৈর্ঘ্য সড়কে মাটি কাটা হয়েছে। খাড়াভাবে পাহাড় কাটার ফলে ঝুঁকিতে পড়েছে একাধিক বসতবাড়ি।

আলমগীর নামে এক বাসিন্দা জানান, খাড়াভাবে পাহাড় কাটার ফলে বর্ষাকালে ভূমি ধ্বসে বসতবাড়ি ভেঙ্গে প্রানহানীর আশংকায় রয়েছে তিনি সহ এলাকার একাধিক পরিবার। একই স্থানে ইতিপূর্বে পাহাড় ধ্বসে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানান।
কাউয়ারখোপ ইউপি চেয়ারম্যান শামশুল আলম জানান, এলজিইডির অধীনে লট উখিয়ারঘোনার ঝর্নামুড়া-লামারপাড়া সড়কটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। পাহাড় কাটার বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।
পাহাড় কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে রামু বাঁকখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা সরওয়ার জাহান জানান, বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তর দেখবে। এছাড়া পাহাড়গুলো তার রেঞ্জের আওতাধিন কিনাও তিনি অবগত নন বলে প্রতিবেদককে জানান।

অভিযুক্ত ঠিকাদার সুলতান আহমদ বাহাদুর পাহাড় কাটার কথা স্বীকার করে মাটিগুলো সড়ক ভরাটের কাজে ব্যবহার করছেন বলে জানান।
কক্সবাজার জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, সরজমিনে পরিদর্শন করে সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও)ফাহমিদা মুস্তফা জানান,পাহাড় কাটা আইনত অপরাধ। তিনি এব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবেন বলে জানান।














