
হাসান তারেক মুকিম:
কক্সবাজারের রামুতে গড়ে উঠেছে ৪২ ইট ভাটা, যার অধিকাংশই সরকারী অনুমোদন নেই। যে কয়টি ভাটার অনুমোদন রয়েছে সেগুলোর লাইসেন্সও মেয়াদোর্ত্তীন।
কিন্তু রহস্যজনক কারনে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরব এবং কার্যকর কোনো ভূমিকা পালন করছে না।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, রামু উপজেলায় মোট ইটভাটার সংখ্যা ৪২টি। তৎমধ্যে ১৯টি ইটভাটার অনুমোদন থাকলেও কোনটির লাইসেন্স নবায়ন করা নেই। সরকারি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে কৃষি জমি ও বনাঞ্চলের পাশে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে এসব ইটভাটা। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ইট পোড়ানো লাইসেন্স, ফায়ার সার্ভিসের সার্টিফিকেট এমনকি ভ্যাট-আয়কর প্রদানের কাগজপত্র ছাড়াই ইটভাটার মালিকরা আবাদী জমি ও জনবসতি এলাকাসহ স্কুল-কলেজের পাশে রাত-দিন ২৪ ঘন্টা ইট পোড়ানো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
অথচ ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩ তে বলা আছে, ‘আবাসিক এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার ও ফসলি জমির এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপনের বিধান না থাকলেও স্থানীয় চেয়ারম্যান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তর বে-আইনীভাবে লাভবান হয়ে আপত্তি নাই মর্মে প্রত্যয়ন পত্র দিয়ে এসব অবৈধ ইটভাটা চলার সুযোগ করে দিচ্ছে বলে সচেতন মহলের অভিযোগ।
ফসলি জমির মাটি ও বনাঞ্চলের গাছ উজাড় করে চলছে এসব ভাটায় ইট পোড়ানোর কাজ। ইটভাটাগুলো থেকে নির্গত হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে কালো ধোঁয়া। যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এছাড়া কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাসের পাশাপাশি রয়েছে ফলন বিপর্যয়ের আশংকা। ভাটার ইট-মাটি পরিবহনের কারনে গ্রামীন সড়কগুলো খানা-খন্দকে পরিণত হয়েছে।অস্বাভাবিক ধুলোয় বিপর্যস্ত জনজীবন।
এদিকে মাঝেমধ্যে ভাটা মালিককে নামমাত্র জরিমানা করেই প্রশাসন দায় সেরেছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
এব্যাপারে রামুর বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর আহমদ জানান, রামুর অধিকাংশ ইটভাটার নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। বেশিরভাগ ভাটায় স্থানীয় রাজনীতিক ও জন প্রতিনিধিদের। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বনাঞ্চল ও ফসলী জমিতে গড়ে তুলেছে নিয়মবহির্ভূত ইটভাটা। আর এসব ইটভাটা গিলে খাচ্ছে ফসলী জমির মাটি আর উজাড় করছে বনাঞ্চল। এতে করে পরিবেশ বিপন্নের পাশাপাশি ফলে কৃষি উৎপাদন ও জীববৈচিত্র মারাত্মক হুমকিতে পড়ছে।
রামু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু মাসুদ সিদ্দিকী জানান, তিনি দায়িত্বে আসার আগ থেকেই এসব ইটভাটা চলছে। তিনি প্রায় সময় উপজেলা পরিষদের সভায় এ বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন।তিনি সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতনদের নজরদারি প্রয়োজন বলে জানান।

কক্সবাজার জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান জানান, অবৈধ ইটভাটার তথ্য এবং প্রতিবেদন ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হলে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও)ফাহমিদা মুস্তফা অবৈধ ইটভাটার কথা স্বীকার করে জানান,ফসলি জমির মাটি ব্যবহার ও বনের কাঠ পোড়ানোর অপরাধে কয়েকটি ভাটাকে জরিমানা করা হয়েছে। অবৈধ ভাটার ব্যাপারে প্রতিবেদন আকারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।













