
হাসান তারেক মুকিম:
কক্সবাজারের রামুর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা চৌমুহনী স্টেশনে ফুটপাত দখল করে সড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা অসংখ্য ছোট-বড় স্থাপনা ও ঝুঁপড়িঘর উচ্ছেদ করেছে রামু উপজেলা প্রশাসন। ছাড়াও নানা অপরাধে ৩০ প্রতিষ্ঠানকে ১ লক্ষ ১০ হাজার ৫০০ শত টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। একই সাথে রামু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের দেয়াল ঘেঁসে গড়ে উঠা সাতটি অবৈধ স্থাপনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উক্ত স্থাপনা উচ্ছেদে সময়সীমা বেঁধে দেন ইউএনও।
রবিবার (৫ফেব্রুয়ারী) সকাল থেকে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা মুস্তফার নেতৃত্বে পলিচালিত অভিযানে চৌমুহনী ও এর আশপাশ এলাকার প্রায় অর্ধশত অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযানে কাউকে আটক করা না গেলেও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীদের সতর্ক করে দেন ইউএনও।
অভিযানে উপজেলা পরিষদের পাশ্ববর্তী ফজল কোম্পানীর পেট্রোল পাম্পকে ১৫ হাজার টাকা, চৌমহনী স্টেশনের মা ক্রোকারিজকে ৫ হাজার টাকা, নুর ক্রোকারিজের দুইটি দোকানকে ১০ হাজার টাকা, হোসেন ক্রোকারিজকে ৫ হাজার টাকা, মেহমান ক্রোকারিজকে ২ হাজার টাকা, এন আলম ক্রোকারিজকে ৫ হাজার টাকা, রংধনু গিফট প্লাসকে ২ হাজার টাকা, মেহরাজ ক্রোকারিজকে ৫ হাজার টাকা, হাবিব ক্রোকারিজকে ২ হাজার টাকা, মিস্টিরাজকে ৭ হাজার টাকা, মধুবনকে ২ হাজার টাকা, জিয়াবুল হকের পানের দোকানকে ৫০০ টাকা, মুন্নার দোকানকে ১ হাজার টাকা, প্রিয়ম ফুডসকে ৫ হাজার টাকা, মোক্তার হার্ডওয়ারকে ২ হাজার টাকা, আনিসুর রহমান স্টোরকে ২ হাজার টাকা, হাজী স্টোরকে ২ হাজার টাকা, মোহাম্মদীয়া স্টোরকে ৫ হাজার টাকা, সাদ্দাম স্টোরকে ১ হাজার টাকা, এইচএম জামান স্টোরকে ২ হাজার টাকা, মিজান স্টোরকে ২ হাজার টাকা, তাহের স্টোরকে ১ হাজার টাকা, সিএনজি সমবায় সমিতিকে ১০ হাজার টাকা, হেলথ রামু ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ১০ হাজার টাকা, আয়ুব আলীর মুরগীর দোকানকে ১ হাজার টাকা, রাশেলের দোকানকে ১ হাজার টাকা এবং রামু সুপার শপকে ৫ হাজার জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে বেশ কিছু ফলও জব্দ করা হয়, যেগুলো পরবর্তীতে এতিম শিশুদের মাঝে বিতরন করা হয়।

জানা যায়, ফুটপাত দখল করে দোকানঘর ভাড়া দেয় স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। যে কারণে চৌমুহনী স্টেশনে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগের শিকার হয়ে আসছিলেন জনসাধারন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা মুস্তফা বলেন, রামু প্রানকেন্দ্র চৌমুহনী স্টেশনের বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ ঝুঁপড়ি দোকান বসানো হয়েছে। যে কারণে সৌন্দর্যহানির পাশাপাশি প্রতিনিয়ত যানজট সহ দুর্ঘটনা ঘটছে। ফুটপাথ দখল এসব এসব অবৈধ দোকানের কারণে পথচলায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। জনগনের দুর্ভোগের বিষয়টি চিন্তা করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। রামুকে পরিচ্ছন্ন করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান ইউএনও ফাহমিদা মুস্তফা। এদিকে দেরিতে হলেও চৌমুহনীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে স্থানীয়রা।

অভিযান চলাকালে ফতেখাঁরকুল ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভূট্টো, ইউপি সদস্য আজিজুল হক আজিজ, রামু বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকবৃন্দ সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।













