
হাসান তারেক মুকিম:
কক্সবাজারের রামুতে বিস্তীর্ণ এলাকায় চলছে পরিবেশ বিধ্বংসী তামাকের ভয়াবহ আগ্রাসন। অব্যাহত তামাক চাষের কারনে চরম ভাবে বিপন্ন হচ্ছে এ এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ, দেখা দিয়ে খাদ্য সংকট।
রামু উপজেলা সবুজ খাদ্য শস্যের ভান্ডার হিসাবে পরিচিতি থাকলেও কৃষি জমিতে তামাক আবাদের ফলে বোরোর আবাদ ও রবিশস্য উৎপাদনে ব্যাপক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে উপজেলার গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, জোয়ারিয়ানালা, কাউয়ারখোপ, ফতেখারকুল রাজারকুল, খুনিয়াপালং ইউনিয়নে অপ্রতিরোধ্য তামাক চাষের ফলে এ সব এলাকায় খাদ্য শস্যের উৎপাদনের মাত্রা ক্রমান্বয়ে কমে আসছে। দিন দিন তামাক চাষের প্রসারতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখানকার শত শত একর জমিতে তামাকের বিষ ছড়িয়ে পড়েছে। এক শ্রেনীর টোব্যাকো কোম্পানীর লোভের ফাঁদে পড়ে কৃষকরা তামাক চাষে জড়িয়ে পড়ছে। এসব টোব্যাকো কোম্পানী কৃষকদের স্বল্প সুদে ঋনসহ নানা ভাবে উৎসাহিত করে আসছে। যার ফলে অতিতে কৃষকরা যেখানে সোনালী ধান ও সবুজ ফসলাদী ফলাত, সেখানে কৃষকরা এখন অতিউৎসাহী হয়ে তামাক চাষ করছে। অপরদিকে চুল্লি তৈরী করে তামাক পাতা শুকানোর জন্য পুড়ানো হচ্ছে শত শত মন বনের কাঠ। এতে করে উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল, পাশাপাশি তামাক পুড়ানো দুষিত ধোয়ায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর আহমদ জানান, রামু উপজেলায় সিংহভাগ ফসলি জমি দখলে নিয়েছে তামাক। তামাকের আগ্রাসন রোধ করা না গেলে খাদ্য সংকটের পাশাপাশি ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে। এ জন্য তামাক চাষ বন্ধে প্রশাসনকে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) ফাহমিদা মুস্তফা জানান, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী উদ্যোগেও তামাকের কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি আইনের প্রয়োগ বাড়াতে হবে। চাষিরা একটু সচেতন হলেই পরিবেশ বিধ্বংসী এই তামাক চাষ বন্ধ করা সম্ভব। তামাক চাষ যদি বন্ধ করা না হয় তাহলে পরিবেশ ও খাদ্য উৎপাদনে ব্যাপক বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি জানান।













