
রামু প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের রামুতে গৃহবধূ হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী জসিম জামিনে এসে পুনরায় এলাকায় ত্রাস শুরু করেছে। ডাকাত জসিম সম্প্রতি সরকারি বনভ‚মি দখল, সাংবাদিককে হুমকী সহ নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে এলাকার মানুষ আবারো চরম উৎকন্ঠায় ভোগছে।
বন বিভাগের সামাজিক বনায়নের জমি দখলে বাধা দেয়া ডাকাত জসিম সম্প্রতি দৈনিক ইনকিলাবের রামু সংবাদদাতা ও রামু প্রেস ক্লাবের সহ সভাপতি এম আবদুল্লাহ আল মামুনকে প্রাণনাশের হুমকী দিয়েছে। জসিমের নেতৃত্বে গত ২০০০ সালে কাউয়ারখোপ বাজারে ডাকাতি সংগঠিত হয়। জসিম ওই মামলায় এজাহার নামীয় আসামী। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বন মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
সাংবাদিক এম আবদুল্লাহ আল মামুন জানান- হুমকীর ঘটনায় তিনি নিরাপত্তার স্বার্থে ২ আগস্ট রামু থানায় সাধারণ ডায়েরী (নং ৭৩) করেছেন। এতে (জিডি) উল্লেখ করা হয়, উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের পুর্ব পাড়ার আলী আহমদের পুত্র জসিম উদ্দীন ওরফে জসিম্যা ডাকাককে ২০১০ সালে সংগঠিত গৃহবধূকে হত্যার দায়ে রামু থানার মামলায় (নং- ২৩ জি,আর- ১৯৪) কক্সবাজার দায়রা জজ আদালত যাবজ্জীবন সাজা দেয়। ওই মামলায় দীর্ঘ ৬/৭ বছর সাজাভোগের জসিম উদ্দিন সম্প্রতি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। জেল থেকে মুক্তি পেয়েই তিনি নানা অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছেন।
সাংবাদিক মামুন আরও জানান, ২০০৩ সালে বাকখালী বন বিভাগ স্থানীয় গোদার মুখ এলাকায় তাকে একটি সামাজিক বনায়নের প্লট বরাদ্ধ দেয়। বনবিভাগের সহযোগীতায় সেখানে চারা রোপন ও রক্ষনাবেক্ষনের মাধ্যেমে একটি সুন্দর বাগান গড়ে তোলা হয়। কিন্তু বাগানের পার্শ্বে অবৈধ ভাবে বনবিভাগের পাহাড় কেটে জমি দখলে থাকা জসিম্মা ডাকাত ও তার বাহিনী সামাজিক বনায়নের প্রকাশ্যে কাঠ নিধনের মাধ্যেমে বাগানের ব্যাপক ক্ষতি সাধন আসছিলো।
পরে এ বাগানের মেয়াদ শেষ হলে গত ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাঁর (সাংবাদিক মামুন) স্ত্রী ও ভাইয়ের নামে প্লটটি পুনরায় বরাদ্ধ দেয়া হলে সেখানেও বাগান করা হয়। জেল থেকে জামিনে আসার পর জসিম বাগানের কেয়ারটেকারসহ সাংবাদিক মামুনকে বিভিন্নভাবে হুমকী অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া জেলে থাকাকালে জসিমের নির্দেশনায় তার বাহিনী ২০২০ সালে রাতের আঁধারে বাগানের পেপে বাগান কেটে লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করেছিলো।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বন বিভাগের বাঘখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা সরওয়ার জাহান বলেন- সে যত বড়ই অপরাধী হওক, সামাজিক বনায়নের ক্ষতি করতে চাইলে আইনের আওতায় আনা হবে।
এ ব্যাপারে বক্তব্য নেয়ার জন্য রামু থানার উপ-পরিদর্শক জাফর উল্লাহ’র মুঠোফোনে কল করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এছাড়া হুমকীর ঘটনায় অভিযুক্ত জসিমের সাথে বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। এ তার বক্তব্য নেয়া যায়নি।
\ রামু প্রেস ক্লাবের নিন্দা \
রামু প্রেস ক্লাবের সহ সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাবের রামু সংবাদদাতা এম আবদুল্লাহ আল মামুনকে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন- রামু প্রেসক্লাব সভাপতি নীতিশ বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক সোয়েব সাঈদসহ সকল সদস্যবৃন্দ। এক বিবৃতিতে রামু প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দ অভিযুক্ত জসিম উদ্দীনকে দ্রæত আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।













