[post_category_links]

রামুর রাজারকুলে বেড়িবাঁধ ভাঙ্গন, দুশ্চিন্তায় হাজারো মানুষ: বর্ষার আগেই সংস্কারের দাবি

[post_sub_title]
[post_reporter_with_date]

 

মোহাম্মদ আবদুল্লাহ,রামু

কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের শিকলঘাট-পূর্ব রাজারকুল এলাকায় বাঁকখালী নদীর তীরঘেঁষে অবস্থিত বেড়িবাঁধটি দীর্ঘ এক বছর ধরে ভগ্নদশায় পড়ে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কোনোমতে টিকে থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ বাঁধটির এখনো পর্যন্ত স্থায়ী সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ হয়নি। ফলে বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসতেই বাড়ছে এলাকাবাসীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। হাজারো মানুষ আশঙ্কায় দিন পার করছেন যে,টানা বৃষ্টিতেই নদীর পানি ঢুকে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও জীবিকা সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

এক বছর আগের ভয়াবহতা এখনও স্মৃতিতে,
গত বছরের বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবল চাপে রাজারকুল ইউনিয়নের বাঁকখালী নদীঘেঁষা বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়।আসছে বর্ষা মৌসুমে রাজারকুল, দক্ষিণ মিঠাছড়ি এবং আশপাশের আরও কয়েকটি ইউনিয়নের  হাজার হাজার মানুষের চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কৃষিকাজে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত বর্ষা মৌসুমে ভাঙ্গন দেখা দিলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এবং এলাকার যুব সমাজ মিলে জরুরি ভিত্তিতে বালুর বস্তা ও বাঁশের সাহায্যে ভাঙন প্রতিরোধে অস্থায়ী ব্যবস্থা নেয়। তবে সেসব উদ্যোগ ছিল সাময়িক। দীর্ঘমেয়াদে তা টিকবে না—এটি সবাই জানতেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ
স্থানীয় বাসিন্দাদের,একাধিকবার কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সমস্যার কথা জানানো হলেও মিলেছে কেবল আশ্বাস, বাস্তবে নেওয়া হয়নি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ।

শিকলঘাট এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ বলেন, “আমাদের বসতভিটা নদীর পাড়ে। এখন প্রতি মুহূর্তে আতঙ্কে থাকতে হয়, কখন যে পানি এসে ঘরভাঙা শুরু করবে।”

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক মোহাম্মদ ইউনূস বলেন , “আমাদের বাচ্চাদের স্কুলে যাওয়া-আসাও এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই সড়ক দিয়ে কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ চলাচল করে। সড়কটা ভেঙে গেলে পুরো এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।”

রাজারকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুফিজুর রহমান বলেন,“গত বছরের ভাঙনের সময় আমরা স্বেচ্ছাশ্রমে স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে নিয়ে কোনোমতে বাঁধটি সাময়িকভাবে রক্ষা করি। কিন্তু সেটা কখনোই স্থায়ী সমাধান নয়। আমরা একাধিকবার পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়েছি। কিন্তু আজও কোনো বাস্তব উদ্যোগ চোখে পড়েনি। এখন বর্ষা আসছে, সময় খুবই সীমিত। যদি দ্রুত বাঁধ নির্মাণ না করা হয়, তাহলে এই এলাকায় বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। আমি প্রশাসন এবং সরকারের উচ্চমহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি—অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

এই বিষয়ে কথা বলতে পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের উপ-সহকারী প্রকৌশলী খন্দকার আলী রেজার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি ভাঙনের স্থান পরিদর্শন করেছি। আমরা ইতোমধ্যে ভাঙন রোধ ও বাঁধ সংস্কারের জন্য একটি প্রস্তাব ঢাকায় হ্যাড অফিসে পাঠিয়েছি। বাজেট পেলে কাজ শুরু হবে।”

এতে শুধু বাড়িঘর নয়, হুমকির মুখে রয়েছে কৃষিজমি, রাস্তাঘাট, বিদ্যালয়, মসজিদসহ জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে অস্থায়ীভাবে রক্ষা করা বেড়িবাঁধ কোনোভাবেই টিকবে না। এতে করে বড় ধরনের দুর্যোগ নেমে আসবে এলাকাজুড়ে।

রাজারকুলবাসীর এখন একটাই দাবি—অবিলম্বে বাঁধ পুনর্নির্মাণ করে তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। না হলে একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ গোটা জনপদকে অচল করে দিতে পারে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান ছাড়া এলাকার উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই বর্ষার আগেই দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

 

[category_title title="সর্বশেষ" slug="সর্বশেষ"]

[category_title title="এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়" slug="#"]