রামুতে পুলিশের সম্পৃক্ততায় সীমান্তে চোরাচালান: মিয়ানমারে যাচ্ছে মালামাল, আসছে গরু-ইয়াবা

0
8

 

হাসান তারেক মুকিম,রামু

কক্সবাজারের রামুতে সীমান্ত চোরাচালানকে ঘিরে গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) শাহাজাহান মনিরের বিরুদ্ধে বৃহৎ চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।  সীমান্তপথে চলা চোরাচালান নিয়ন্ত্রণের নামে তিনি নিয়মিতভাবে চোরাকারবারিদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় ছাত্র প্রতিনিধি ও সচেতন মহল কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। তারা দ্রুত আইসি শাহাজাহান মনিরের অপসারণ দাবি করেছেন।

তথ্যসুত্রে জানা যায়, কক্সবাজারের রামুর সীমান্ত এলাকা গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত যেন চোরাচালানের অভয়ারণ্য। প্রতিদিন এসব সীমান্তপথ দিয়ে মিয়ানমারের দিকে গাড়ি করে যাচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল। আর অপরদিক থেকে প্রবেশ করছে শত শত গরু ও বিপুল পরিমাণ ইয়াবা। এসব অবৈধ কার্যক্রমে গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির নীরব ভূমিকা স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও গর্জনিয়া পুলিশের চাঁদা-ঘুষ বাণিজ্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং মোটা অংকের চাঁদা আদায়ের মাধ্যমে চোরাচালান আরও বেপরোয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাখাইন রাজ্যে চলমান অর্থসংকট কাটাতে সেখানে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বাংলাদেশে মাদক ও গরুর চালান অব্যাহত রেখেছে। বিনিময়ে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে চাল, ডাল, তেল, দুধ, চিনি, তরকারি, ভোজ্যতেল, ইউরিয়া সার ও নির্মাণসামগ্রীসহ নানা পণ্য।

স্থানীয়রা জানান, রামুর সীমান্ত সড়কে দিন-রাত প্রকাশ্যে এসব চোরাচালান চললেও কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না।

অভিযোগ রয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রামুর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে একাধিক মাদকচালান আটক করলেও গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, এসব মাদকের মূল রুটই গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়া সীমান্ত। এখান দিয়েই ইয়াবা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা চোরাচালান চক্রের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। নিয়মিত মাসোহারা গ্রহণের মাধ্যমে তারা মালবাহী যানবাহন নির্বিঘ্নে পার হতে দিচ্ছে। রাতের আঁধারে ঝাঁকে ঝাঁকে গরুর পাল সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ঢুকছে।

কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, টাকা দিলে ট্রাক পার হয়, না দিলে আটক হয়, এটাই এখন নিয়ম।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীদের দাবি, সীমান্তপথে চাঁদা আদায় এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। মিয়ানমারের আরাকান সীমান্তমুখী রুটে পণ্যবাহী প্রতিটি যানবাহন থেকে নির্দিষ্ট হারে অর্থ নেওয়া হচ্ছে। মোটরসাইকেল থেকে আদায় করা হচ্ছে ১ হাজার টাকা, টমটম থেকে ২ হাজার এবং জিপ বা পিকআপ থেকে ৩ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে আনা প্রতিটি গরুর জন্য গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির নামে দুই হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিদিন শত শত মালবাহী গাড়ি সীমান্তের ঐপ্রান্তে যাচ্ছে, আর এপারে আসছে অসংখ্য গরু। এসব অর্থ স্থানীয় দালাল ও প্রভাবশালীদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীরা।

ছাত্র প্রতিনিধি এস. এম. নজরুল ইসলাম জানান, ৫ আগস্টের পর গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে একাধিক ইনচার্জ (আইসি) পরিবর্তন হলেও বর্তমান আইসি শাহাজাহান মনির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান কার্যক্রম আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত চাঁদাবাজি ও চোরাচালান সিন্ডিকেটের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রামুর ছাত্রসমাজ ও স্থানীয় জনতা দ্রুত গর্জনিয়া ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহাজাহান মনিরের অপসারণ দাবি করেছেন।

চোরাচালানের কারণে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্তঘেঁষা অঞ্চল থেকে ইয়াবা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে, যা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মাদকের বিস্তার ঘটাচ্ছে।

গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) শাহাজাহান মনির এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চোরাচালান প্রতিরোধে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

 

 

আগেবিটিভি’র “নতুন কুঁড়ি ২০২৫”-এ উজ্জ্বল উখিয়ার তিন প্রতিভাবান শিক্ষার্থী।
পরেরামুতে ঘুষ বঞ্চিত পুলিশ কর্মকর্তার পাল্টা ব্যবস্থা: বাদীর বিরুদ্ধেই ভুয়া প্রতিবেদন