কক্সবাজার খবর ডেস্কঃ
ব্যাপক সংস্কারের পর নতুন রূপ পাওয়া কক্সবাজার সদর হাসাপাতালের জরুরী বিভাগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে গতকাল। এর মধ্য দিয়ে জেলা সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা খাতে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হয়েছে। এটিকে দেশের জেলা পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত প্রথম বিশ^মানের স্বয়ংসম্পূর্ণ আধুনিক জরুরী বিভাগ হিসেবে অভিহিত করছেন সংশ্লিষ্ঠরা।
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার সদর–রামু আসনের সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল শনিবার দুপুরে ফিতা কেটে এ বিভাগের উদ্বোধন করেন। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে হাসপাতালের বিএন পাল সম্মেলন কক্ষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়াজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংসদ কমল বলেন, ‘আধুনিক জরুরী বিভাগ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে একটি শুভ সূচনা হলো। এটি কক্সবাজারবাসীর জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়।’
তিনি বলেন, ‘এই হাসপাতাল ২৫০ শয্যার। কিন্তু এখানে প্রতিদিন ছয় শতাধিক রোগীকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে হয়। দুই শতাধিক লোক টিকিটের অপেক্ষায় থাকে। কিভাবে এটি সম্ভব? আমাদের আরও চিকিৎসক প্রয়োজন। এখনও অনেক রোগীকে ফ্লোরে রাখতে হয়।’
সভাপতির বক্তব্যে জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: মহি উদ্দিন বলেন, ‘যে জরুরী বিভাগ যুক্ত হয়েছে–তা বিশ^মানের। দেশের জেলা পর্যায়ের কোন হাসপাতালে এ ধরনের জরুরী বিভাগ নেই। আমরা ১০০ শয্যার জনবল নিয়ে ছয় শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা দিচ্ছি প্রতিদিন। আশা করি বিদ্যমান জনবল সংকট খুব শিগগিরই দূর হবে। আগামী নভেম্বরে আমরা আরও ৮ জন চিকিৎসক পাবো।’
এসময় অন্যানের মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি ফর রেডক্রস (আইসিআরসি) এর হেড অব ডেলিগেশন জেরার্ড পেট্রিগনেট, জেলা বিএমএ এর সাধারণ সম্পাদক ডা: মাহবুবুর রহমান, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের, হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা: নোবেল কুমার বড়ুয়া, কক্সবাজার পৌরসভার প্যানেল মেয়র হেলাল উদ্দিন কবির, আইসিআরসি কক্সবাজার অফিসের প্রধান সাবরিনা ডিংক। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শাহীন আবদুর রহমান চৌধুরী।
সভায় শাহীন আবদুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘জরুরী বিভাগে আসা নতুন রোগীদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষনের জন্য ‘ট্রিয়ার্স কর্ণার’ রাখা হয়েছে। সেখানেই নির্ধারণ হবে প্রাথমিকভাবে কোন রোগীকে কোন জোনে নেওয়া হবে। সংকটাপন্ন রোগীদের নেওয়া হবে ‘রেড’ জোনে। জীবন রক্ষার সমস্ত সরঞ্জাম যুক্ত হয়েছে সেখানে। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েই বাড়ি যওয়া সম্ভব–এমন রোগীরা চিকিৎসা পাবেন ‘গ্রীন’ জোনে। আবার যারা চিকিৎসা নেবে, কিন্তু তখনই বাড়ি যেতে পারবে নাÑতাদের পর্যবেক্ষনের জন্য ৭/৮ ঘন্টা ‘ইয়েলো’ জোনে রাখা হবে। পরে অবস্থা বুঝে তাদের ওয়ার্ডে স্থানান্তর বা বাড়িতে পাঠানো হবে। সেখানে পুরুষ ও নারীদের জন্য ৪টি করে মোট ৮টি শয্যা রাখা হয়েছে। আর মরপন্ন রোগীদের রেড জোনে চিকিৎসা দেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাদের অন্য বিভাগে স্থানান্তর করা হবে।’
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, আইসিআরসির অর্থায়নে হাসপাতালের মূল ভবনের নিচতলার পুরোটা মিলেই জরুরী বিভাগ স্থাপন করা হয়েছে। জরুরী বিভাগের উন্নয়ন ও সংস্কার কাজে ব্যয় হয়েছে ১১ কোটি টাকার বেশি। সেখানে ওয়ান ওয়ে গেট নির্মাণ করা হয়েছে। প্রবেশের জন্য থাকছে আলাদা পথ, আবার বেরিয়ে যাওয়ার জন্যও থাকছে আলাদা পথ। যে পথে রোগী ও স্বজনরা ঢুকবেন সেই পথে আর বেরুনোর সুযোগ থাকবে না। একজন রোগীর সঙ্গে কেবলমাত্র একজন স্বজনকে ঢুকতে দেওয়া হবে। রোগীর একজন স্বজনের জন্য বিনে পয়সায় একটি করে পাস কার্ড দেওয়া হবে। রোগীকে দেওয়া হবে টিকেট।
কক্সবাজার রিপোর্ট













