রামুতে  শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগে সহপাঠীদের ক্লাস বর্জন 

0
1654

 

আল মাহামুদ ভুট্টো/হাসান তারেক মুকিম,রামু
রামু টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট এর অফিস সহকারী উৎপল কুমার দাশের বিরুদ্ধে নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) ইনস্টিটিউট এর শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন করে। খবর পেয়ে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা ও রামু থানার ওসি মো. আবুল খায়ের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযুক্ত অফিস সহকারী উৎপল দাশের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা শান্ত হন।

টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট এর ছাত্র ছাত্রীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সহপাঠীকে উক্তক্তকারী উক্ত উৎপল কুমার দাসের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি প্রদানের লক্ষ্যে ক্লাস বর্জন করেছি, আমরা প্রশাসনের কাছে নারীলোভী উৎপল কুমার দাসের যথাযথ শাস্তি কামনা করছি।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা জানান, খবর পেয়ে তিনি টেক্সটাইল ভোকেশনাল এ পরিদর্শনে যান তিনি। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে অভিযুক্ত অফিস সহকারি উৎপল দাসের পক্ষে বিপক্ষে অনেক কথা শুনেছেন। অধিকাংশ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক উৎপল দাস এর বিরুদ্ধে কথা বলেছেন এবং প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে তিনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে বলে জানান।

জানা গেছে, বেশ কিছুদিন যাবৎ নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (নাম প্রকাশ করা হলো না) কুপ্রস্তাব দিয়ে আসতেছে রামু টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট এর অফিস সহকারী চট্টগ্রাম রাউজান উপজেলার কদমতলী খোন্দকার পাড়া এলাকার সুনীল কুমার দাশের ছেলে উৎপল কুমার দাশ। এর আগেও তার বিরুদ্ধে সহকর্মীকে কুপ্রস্তাবসহ যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠান সুপার বিশ্বজিৎ দাসকে অবহিত করেও কোন সুরাহা না পাওয়ায় উৎপল কুমার দাশের বিরুদ্ধে অনৈতিক প্রস্তাবসহ নানা অভিযোগে বস্ত্র অধিদপ্তর এর মহাপরিচালক বরাবর অভিযোগ করেছেন বলে জানান হয়রানির শিকার ওই ছাত্রী।

লিখিত অভিযোগে ভিকটিম ওই শিক্ষার্থী উল্লেখ করেন, প্রায় সময় অফিস সহকারী নানা অজুহাতে তাকে অফিসে ডাকতেন। এবং নানা প্রলোভন দেখিয়ে কু-প্রস্তাব দিতেন। এমনকি কু-প্রস্তাবে রাজি না হলে ইনষ্টিটিউট থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন এবং নিরাপত্তা চেয়ে উৎপল দাশের এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ভিকটিমের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট সুপারিনটেনডেন্ট (অতিঃ দাঃ) প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ দাস জানান, উক্ত বিষয়ে সঠিক তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর একটি লিখিত প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত টেক্সটাইল ভোকেশনাল এর অফিস সহকারি উৎপল কুমার দাশ নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে বলেন তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ প্রতিষ্ঠানে সুনামের সাথে কাজ করে আসছেন এবং এটা তার বিরুদ্ধে সাজানো ষড়যন্ত্র, তার সুনাম নষ্ট করার জন্য এবং প্রতিষ্ঠান থেকে বের করার জন্য মূলত ভিকটিমকে ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি সাংবাদিকদের সঠিক তথ্য উৎঘাটন করে নিউজ করার অনুরোধ জানান।

আগেদক্ষিণ মিঠাছড়ির রফিকুল আলম চৌধুরী  আর নেই
পরেরামুর কচ্ছপিয়ার  আমির মোহাম্মদ চৌধুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির  সদস্য চুডান্ত