শহরের প্রধান সড়কের মালিকানা কউকের,কান্না থামছে না সড়ক জনপথ বিভাগের!

0
43

 

এইচ.এম নজরুল ইসলাম

কয়েকদিনের বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে মারাতœক বিপর্য়স্থ হয়ে পড়েছে কক্সবাজারের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।শহরের প্রধান সড়কসহ অভ্যন্তরীণ সড়কের বেহাল দশা। জনদুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। সরেজমিন দেখাগেছে, হলিড়ের মোড় থেকে বাসটর্মিনাল পর্যন্ত সৃষ্টি হয়েছে ছোট বড় অনেক গর্ত। গর্তের সাথে যোগ হয়েছে সড়কেরউঁচু-নিচু অংশ। এসব এলাকার মধ্যে বেহাল অবস্থা প্রধান সড়কের চৌধুরী ভবন থেকে বাসটার্মিনাল পর্যন্ত সড়কেরমাঝের অংশ পাশের অংশের তুলনায় নিচু থাকায় যানবাহন চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। যার ফলে বর্ষা মৌসুমেকম খরচ ও সৈকতের প্রকৃত রূপ দেখতে ছুটে আসা পর্যটকরাও পড়ছে নানা দূর্ভোগে। আর ঈদুল আযহার আগেইসড়কের এই বেহাল দশা সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন পর্যটকসহ সচেতন মহল।

অন্যদিকে শহরের প্রধান সড়ক নিয়ে চলছে রশি টানাটানির ঘটনা। স্থানীয়দের কাছে প্রধান সড়কের মালিকানাকার তা অস্পষ্ট থাকার দোষছে পৌরসভাসহ একের পর এক সরকারের বিভিন্ন দপ্তরকে! যার ফলে স্থানীয়দেরক্ষোভের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

প্রাপ্ত তথ্য মতে জানা যায়, প্রধান সড়কটি পৌর এলাকার মধ্যে হওয়ায় অনেকেই পৌর কতৃপক্ষের অবহেলাকে দায়ীকরে আসলেও মূলত দীর্ঘ সময় ধরে সড়কটির রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্ব ছিল সড়ক জনপথ বিভাগ কক্সবাজার।

এদিকে গত ৩১ জুলাই মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে জয় বাংলা বাহিনির প্রধান কামাল হোসেন চৌধুরী সড়ক জনপথবিভাগের প্রকৌশলীকে রাস্তা সংস্কারের জন্য আক্রমান্তক বক্ত্যবের মাধ্যমে ২৪ ঘন্টা আল্টিমেটাম দেওয়ার পর নতুনকরে আলোচনায় আসে শহরের প্রধান সড়ক আসলে কার অধিনে নিয়ন্ত্রিত?

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,প্রধান সড়কটি সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের। তবে সওজের সঙ্গে সমঝোতা করে গতআড়াই বছর ধরে প্রকল্পটি নিয়ে কাজ করছে কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষ (কউক)। পরিকল্পিত নগরায়নের অংশহিসেবে কক্সবাজার শহরের ‘হলিডের মোড়-বাজারঘাটা হয়ে লারপাড়া বাসস্ট্যান্ড’ পর্যন্ত প্রধান সড়ক চার লেনেউন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেন কউক।

সওজের গেজেট অনুযায়ী উভয় পাশে উল্লেখযোগ্য জায়গার পুরোটাই ব্যবহার করে প্রকল্পের আওতায় ৫ দশমিক ২কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটি চার লেন সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা গেছে। প্রকল্প পুরোপুরি সম্পন্ন হলে পরবর্তীরক্ষণাবেক্ষণের জন্য সওজকেই হস্তান্তর করা হবে বলে জানা যায় সড়ক বিভাগ সূত্র থেকে।

মুলত পর্যটনের গুরুত্ব বিবেচনায় সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটিঅনুমোদন হয়েছে। একনেক চেয়ারপার্সন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুমোদিত প্রকল্পের মেয়াদ ধরাহয়েছে জুন ২০২১ সাল পর্যন্ত। এবং শহরের সৌন্দর্য বর্ধন ও যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ২৯৪ কোটি ১৪ লাখ ৮৪হাজার টাকা ব্যয়ে সড়কটি চার লেন করার প্রকল্প নিয়েছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)। যার ফলে শহরেরপ্রধান সড়কটির বর্তমান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষ বলে নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে বর্ষা মৌসুমে প্রধান সড়কে বেহাল দশা নিয়ে দিন দিন ফুঁসে উঠছে কক্সবাজারবাসী। জরুরী প্রয়োজনে গর্তভরাট ও সংস্কারের দাবী জানালেও তাতে টনক নড়ছে না সড়কটির দায়িত্ব পাওয়া কতৃপক্ষের!  প্রধান সড়ক দিয়েপ্রতিনিয়তেই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাসপাতালে আসা রোগি, রোগির স্বজন-সহ দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজারোজনসাধারণ। পাশাপাশি চরম ভোগান্তির শিকারও হচ্ছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রতিদিন এই প্রধান সড়ক দিয়ে হেলেদুলে ঝুঁকি নিয়ে চলছে ছোট বড় হাজারওযানবাহন। এ সড়কে নিত্যদিন যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ  যেন চাড়ছে না কাউকে। পর্যটন শহরের রাস্তার বেহাল দশাও ভোগান্তির যন্ত্রণায় ইদানীং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে ক্ষোভের অনুভূতি বহিঃপ্রকাশ।

যার অধিকাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় কক্সবাজার পৌরসভা ও সড়ক জনপথ বিভাগের প্রতি।

এবিষয়ে কক্সবাজার পৌরসভার প্যানেল মেয়র শাহেনা আক্তার পাখী জানান, প্রধান সড়কটি সকলে মনে করেকক্সবাজার পৌরসভার অধিনে, মূলত এটি শুরু থেকে সড়ক জনপথ বিভাগের থাকলেও বিগত ১৮ সালের ৯অক্টোবরে দিকে প্রধান সড়কটি কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষকে হস্থান্তর করা হয়েছে বলে যেনেছি। তাই এখনশহরের প্রধান সড়কের দায়দায়িত্ব শুধুমাত্র উন্নয়ন কতৃপক্ষের। তবে তিনি বলেন প্রধান সড়কের করুন অবস্থাথেকে পৌরবাসীসহ পর্যটকরে মুক্তি দেওয়া জরুরী হয়ে পড়েছে।

এবিষয়ে জেলার অন্যতম সামাজিক সংগঠন “আমরা কক্সবাজারবাসী” সমন্বয়ক নাজিম উদ্দিন বলেন, প্রধানসড়কটির মালিকানা কার হাতে সেটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ভিন্ন ভিন্ন ধারনা রয়েছে। তবে আমি যতটুকুজানি প্রধান সড়কটির ভালো মন্ধের সব দায়িত্ব এখন উন্নয়ন কতৃপক্ষের,তাই প্রধান সড়কের বেহাল দশার জন্যউন্নয়ন কতৃপক্ষ দায় এড়াতে পারেন না। জরুরী অর্থ বরাদ্ধ নিয়ে হলেও সড়ক দিয়ে মানুষ চলাচলের জন্য উপযুগীকরে দেওয়া দরকার।

কক্সবাজার সিটি কলেজের ছাত্র কামাল হোসেন বলেন, চার লেইনের রাস্তার স্বপ্ন দেখিয়ে লাভ নেই,আপতত বাড়িথেকে কলেজে যেতে পারি মতো রাস্তাটি সংস্কার করে দেওয়া জরুরী।

সামাজিক সংগঠন সায়মুন সংসদ এর চেয়ারম্যান নুরুল আবছার সিকাদার বলেন, প্রধান সড়ক দিয়ে গাড়ি নিয়েমানুষ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে যার ফরে প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা। মানুষের চরম দুর্ভোগ দেখে আমারসংগঠন সায়মুন সংসদের পক্ষ থেকে শহরের আলির জাহান এলাকায় স্বেচ্ছাশ্রমে নিজস্ব অর্থআয়নে প্রধান সড়কেরবড় বড় গর্ত কংক্রিট দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে মূলত আমরা যেটি করেছিসেটি করা উচিত জনপ্রতিনিধিদের আর সড়কটির নিয়ন্ত্রণ সংস্থা উন্নয়ন কতৃপক্ষের।

এবিষয়ে ব্যবসায়ী সেলিম উদ্দিন বলেন, পুকুর সংস্কারের আগে প্রধান সড়ক সংস্কার করলে সাধারণ মানুষেরকাজে লাগত, রোগী নিয়ে অন্তত প্রধান সড়ক দিয়ে হাসপাতালে যাওয়া সম্ভব না বর্তমান রাস্তা দিয়ে। এভাবে চলতেপারে না জনজীবন,আশাকরি এটি উন্নয়ন কতৃপক্ষ দ্রুত নজর দিবেন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, কক্সবাজারের শহর ও শহরতলীর প্রায়ই প্রধান সড়কে খানা-খন্দকে ভরপুুর।

বিশেষ করে বাসটার্মিনাল, আলিরজাহাঁল মসজিদ সম্মুখে  প্রধান সড়কে, আয়কর ভবনের সামনে,সিটি কলেজেরসামনে রুমালিয়ারছরা টেকনিক্যাল স্কুলের সামনে, চৌধুরী ভবনের সামনে, কালুর দোকান এলাকায়, বড়বাজার,বাজারঘাটা, বিলকিস মার্কেটের সামনে-সহ প্রায়ই প্রধান সড়কের ছোট ছোট গর্ত ও খানা খন্দকে ভরপুর।এমনকি কোন কোন জায়গায় একেবারেই চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জায়গায় শুধু পিচই নয় খোয়াও উঠেগেছে। শুধু যানবাহন নয়, পথচারীদের চলাফেরায়ও অসুবিধা হচ্ছে।  প্রায় একই অবস্থা দেখা গেছে পুরো পৌরএলাকার প্রধান সড়কজুড়ে।

এদিকে প্রধান সড়কের বেহাল দশায় পর্যটকরা কক্সবাজারমুখী হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন পর্যটন সংশ্লিষ্টব্যবসায়ীরা। কক্সবাজার হোটেল মালিক সমিতির মুখপাত্র আবু তালেব শাহ জানান, ঈদুল আযহার আগে সড়কেরবেহাল দশা সংস্কার করা না হলে লোকসানের মুখে পড়বে এখানকার পর্যটন খাত।

এদিকে প্রধান সড়কের বেহাল দশা নিয়ে সড়ক জনপথ বিভাগের প্রকৌশলীকে নিয়ে ক্ষুব্ধ মন্তব্য করার বিষয়ে ব্যাখ্যাদিয়েছে সড়ক জনপথ বিভাগ কক্সবাজার তারা জানিয়েছেন,

লারপাড়া-ঝিনুক মার্কেট সড়কটি গত (শহরের প্রধান সড়ক) ০৮/১০/২০১৮ খ্রিঃ পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ বিভাগ, কক্সবাজারের আওতাধীন ছিল। কিন্তু কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সৃষ্টি হওয়ার পর সড়কটি কক্সবাজার উন্নয়নকর্তৃপক্ষ নিজেদের আওতায় নিয়ে আরও সংস্কার, ৪-লেনে উন্নয়ন, সড়কের সৌন্দর্য বর্ধণের নিমিত্তে লারপাড়া-ঝিনুক মার্কেট সড়কটি (শহরের প্রধান সড়ক) কক্সবাজার সড়ক বিভাগ হতে হস্তান্তর গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন।সেই প্রেক্ষিতে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে বর্ণিত সড়কটি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তরের সিদ্ধান্তগৃহীত হয় যার স্মারক নং-৩৫.০০.০০০০.০৩৩.০১৪. ০৬.১৬-২৭০, তারিখ-২৪/১০/২০১৭ খ্রিঃ। কক্সবাজারউন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সড়কটি হস্তান্তর গ্রহণের জন্য একটি পত্র প্রেরণ করেন ও সড়ক উন্নয়নের নিমিত্তে একটি ডিপিপিপ্রস্তুত করেন। যার প্রাক্কলিত ডিপিপি মূল্য ২৫৮৮১.৬০ লক্ষ টাকা।

 

 

 

 

আগেলাদেনপুত্র হামজা ‘নিহত’
পরেঘন ঘন স্পীডব্রেকার চৌফলদন্ডী-খুরুস্কুল সড়কে : দূর্ঘটনার আশংকা