অনলাইননিউজ ডেস্ক : টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য ৫টি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের প্রস্ততি চলছে। বৃহস্পতিবার ২৯ আগষ্ট দুপুরে কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন এর নেতৃত্বে একটি টিম টেকনাফের জাদিমুরা, শালবাগান, নয়াপাড়া, আলীখালী ও লেদা রোহিঙ্গা শিবির ঘুরে দেখে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন। তাছাড়া রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যার ঘটনাস্থল পরির্দশন, পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ ও হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের প্রতিনিধি ও টেকনাফের জাদিমুরা শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ মোহাম্মদ খালেদ হোসেন, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) এর কক্সবাজার সিনিয়র লিয়াজো অফিসার মোহাম্মদ বায়েজিদ, টেকনাফ মডেল থানা ওসি (তদন্ত) এবিএমএস দোহা প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন ।
পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের জানমালের নিরাপত্তা ও বিভিন্ন অপরাধ দমনসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পাচঁ রোহিঙ্গা শিবিরে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হবে। এত অল্প সময়ে বিশ্বের কোন দেশ এত আশ্রয়হীন মানুষকে আশ্রয় দেয়নি। মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের আশ্রয় ও নানা সেবা দিয়েছি। রোহিঙ্গা শিবিরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে এবং যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যাকারিদের গ্রেফতার করে দ্রæত বিচারের মুখোমুখি করা হবে’।
শরণার্থী ত্রাণ প্রত্যাবাসন কমিশনারের প্রতিনিধি ও টেকনাফের জাদিমুরা শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ মোহাম্মদ খালেদ হোসেন বলেন, ‘রোহিঙ্গা শিবিরে নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের প্রস্ততি চলছে, সেজন্য জায়গাও নির্ধারণ করা হয়েছে’।
উল্লেখ্য, গত ২২ আগষ্ট রাতে টেকনাফে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। টেকনাফের জাদিমুরা, শালবাগান, লেদা, নয়াপাড়া ও আলীখালী রোহিঙ্গা শিবিরগুলো দিন দিন ভয়ানক হয়ে উঠছে। এ ঘটনার পর থেকে কয়েকটি শিবিরে নিরাপত্তার ভয়ে এনজিওদের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তারই সূত্র ধরে অপরাধ দমন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে সরকার ৫টি রোহিঙ্গা শিবিরে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে।













