রামুতে হালনাগাদ ভোটার তালিকায় ঢুকছে রোহিঙ্গা

0
9
সমকাল ডেস্কঃ
রামুতে নানা কৌশলে রোহিঙ্গারা ভোটার হালনাগাদ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, জন্মনিবন্ধন, জমির খতিয়ান, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নাগরিক সনদসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের কাগজপত্র তারা সংগ্রহ করছে। পরিচয় লুকিয়ে রোহিঙ্গারা অন্যের কাগজপত্রও ব্যবহার করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের যোগসাজশে কিছু অসাধু ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে সহযোগিতা করছে। উপজেলা নির্বাচন অফিসের দুর্বল ব্যবস্থাপনাও অনেক ক্ষেত্রে দায়ী বলে জানিয়েছেন সংশ্নিষ্টরা। তাদের মতে, পুরোনো রোহিঙ্গারা, যারা দীর্ঘদিন এদেশে বাস করে স্থানীয়দের বিয়েশাদি করে স্থায়ী হয়েছেন, তারাই মূলত কৌশলে ভোটার তালিকায় ঢুকে যাচ্ছে।

রামু উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান অবশ্য তাদের দূর্বল ব্যবস্থাপনার বিষয়টি মানতে নারাজ। তিনি বলেন, শতভাগ স্বচ্ছতার মধ্যে বিশেষ কমিটির সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেই রামুতে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ চলছে। পুরো কক্সবাজার জেলার আটটি উপজেলাসহ চট্টগ্রাম বিভাগের ৩২টি উপজেলাকে বিশেষ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ ফরম।

তিনি জানান, যাচাই-বাছাইয়ের সময় প্রয়োজনে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের সহায়তা নেওয়া হয়। পুরো কার্যক্রম সফল করতে গঠন করা হয়েছে বিশেষ কমিটি। এই কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সদস্য সচিব উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। তাদের সহযোগিতা করছে পুলিশ প্রশাসন, ডিজিএফআই, এনএসআই, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, বিজিবি ও আনসার প্রতিনিধিসহ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানরা। সুতরাং রোহিঙ্গারা ভোটার তালিকায় ঢুকে পড়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রণয়নে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ১২ হাজার ৯৪টি ফরম পূরণ করা হয়। যাচাই-বাছাইয়ে ৯ হাজার ৬৪৯ ফরম গৃহীত এবং ২ হাজার ৪৪৫টি বাতিল করা হয়। গৃহীত ফরম অনুযায়ী চূড়ান্ত কার্যক্রমে ছবি তোলার কাজও এরই মধ্যে শুরু হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, রামুতে দুই রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশের নাগরিক সাজিয়ে হালনাগাদ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে ভুয়া কাগজপত্র সরবরাহ করার অপরাধে মোহাম্মদুল

হক নামে একজনকে গত ৯ অক্টোবর ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তথ্য গোপন করার অভিযোগে

 

 

 

মনজুর আলম ও হাফেজ আহমদকে গত ১৫ অক্টোবর ২০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জাল জন্মনিবন্ধনের কপি নিয়ে হালনাগাদ ভোটার কার্যক্রমে ছবি তুলতে এলে রাহমাতুল আমিনকে ১৬ অক্টোবর ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জাল খতিয়ানের কপি নিয়ে আসায় মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ও আনোয়ার হোছাইন নামে দুই ব্যক্তিকে গত ১৯ অক্টোবর এক হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। জন্মনিবন্ধন সনদে ইউপি চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগে ছৈয়দ আলম নামে একজনকে গত ২০ অক্টোবর জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ভোটার হওয়ার জন্য ভুয়া কাগজপত্র তৈরিতে ইউপি চেয়ারম্যান বা সদস্যদের কোনো প্রকার সংশ্নিষ্টতা নেই বলে জানান জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল শামশুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স। তিনি বলেন, স্থানীয় কিছু ব্যক্তি নিজেদের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে সনদপত্র নিয়ে যাওয়ার মতো কাজ করতে পারে। তবে যাচাই-বাছাইয়ে ভুয়া প্রমাণ হলে আমরা তাদের শাস্তি দিচ্ছি। গর্জনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ছৈয়দ নজরুল ইসলামও একই কথা বললেন। তিনি বলেন, তার স্বাক্ষর জাল করে রোহিঙ্গা স্ত্রীকে ভোটার করার জন্য নিয়ে এলে ছৈয়দ আলম নামে এক ব্যক্তিকে জরিমানা করা হয়। কচ্ছপিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইসমাইল মোহাম্মদ নোমান বলেন, টাকার বিনিময়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কোনো ধরনের ভুয়া কাগজ দেওয়া হয় না।

 

 

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান আরও জানান, রোহিঙ্গারা যাতে ভোটার না হতে পারে তার জন্য বিশেষ এলাকার জন্য নির্ধারিত ফরমে ভোটার হতে আবেদনকারীর বাবা-মা, ভাই-বোন, চাচা, ফুপু, পূর্বপুরুষ, বসবাসের প্রমাণ হিসেবে জমির কাগজপত্রের তথ্য সংযুক্ত করা হচ্ছে। বিশেষ কমিটি অনুমোদন না করলে ওইসব এলাকায় কাউকে ভোটার করা হচ্ছে না। নির্বাচন কার্যালয়ে নিয়োজিত মাঠকর্মীরা প্রথমে ব্যক্তির ছবি, চোখের আইরিশ, আঙুলের ছাপ ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে ছবি তুলে উপজেলা সার্ভারে রাখবেন।

রামু উপজেলার বিশেষ কমিটির আহ্বায়ক ইউএনও প্রণয় চাকমা বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমে নিবন্ধিত হতে না পারে, সেজন্য সংশ্নিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক দৃষ্টি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারও বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আগেবাঁকখালীর বালি নিয়ে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য
পরেএবার স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আবু কাওছারকে অব্যাহতি