
কক্সবাজার সরকারী কলেজে ইংরেজি বিভাগে অনার্স ১ম বর্ষে পড়ুয়া এক ছাত্র ক্লাসে শিক্ষকের হামলায় আহত হয়েছে। শিক্ষক কর্তৃক নাজেহালের শিকার অনার্স পড়ুয়া আহত ছাত্র ফরহাদুল ইসলাম তার ফেইসবুকে সুষ্ঠু বিচার না পেলে আত্মহত্যার ঘোষনা দিয়েছে। ২২ অক্টোবর বেলা ১১ টায় কক্সবাজার সরকারী কলেজে ইংরেজি বিভাগে ক্লাস চলাকালিন শিক্ষক মিঠুনের থাপ্পরে ছাত্র ফরহাদুল ইসলাম আহত হয়। ফেইসবুকে এ নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা করে এ শিক্ষকের শাস্তী দাবী জানান অনেকে। কক্সবাজারের সর্বোচ্ছ বিদ্যাপিঠে এমন নেক্কারজনক ঘটনায় নিন্দা জানান ওই কলেজের অনেক শিক্ষার্থী।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক মিঠুন চক্রবর্তী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, অনাকাঙ্খিত এ ঘটনাটি আমার ভুল হয়েছে। আমি এর জন্য ক্ষমা প্রার্থী।
আহত ছাত্রের অভিভাবক/বড় ভাই নেছার আহমদ জানান, ‘তার ভাই ডা. লে.কর্ণেল আহসান এর তত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। শারিরিকভাবে অসুস্থতার পাশাপাশি মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছে বেশী। এ বিষয়ে সুষ্ঠু বিচারের লক্ষে অধ্যক্ষের সাথে কথা হয়েছে। দেখি কলেজ কর্তৃপক্ষ কি করেন। অন্যতায় আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হব।
আহত ছাত্র ফরহাদুল ইসলাম তার ফেইসবুকে দেয়া স্টেটাস হুবহু দেয়া হলো-
বিচার চাই, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ চাই, মিঠুন স্যারের কাছে জবাব চাই, না হলে আমি কি করি জানি না, মাথায় আত্মহত্যা ছাড়া আর কিছুই আসছে না।
আমি ফরহাদুল ইসলাম, কক্সবাজার সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্র হই। গতকাল কলেজে ক্লাস করতে গিয়ে এক মর্মাহত ঘঠনার সম্মুখীন হতে হয়। ১ম ক্লাস নিচ্ছিল উক্ত কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মিঠুন চক্রবর্তী (মিঠুন স্যার)। স্যার গ্রামারের কিছু বেসিক নিয়ম মুখে বলে আমাদের নোট করাচ্ছিল। আমরাও মনোযোগ সহকারে লিখছিলাম। আমি ছিলাম ১ম টেবিলের ১ম সিটে। কিন্তু, ক্লাসের শেষ পর্যায়ে তাড়াহুড়ো করে আরো একটা নিয়ম স্যার মুখে বলে আমাদের লিখাচ্ছিল। স্যারের তাড়াহুড়োতে একটা উদাহরণ লিখতে কলম থেমে গেছিল স্যারের মুখের কথা ক্লিয়ার ভাবে শুনতে না পেয়ে। যদিওবা আমি খাতা থেকে কলম তুলিনি বরং স্যারের দিকে তাকিয়ে ছিলাম পুনরায় শুনে লিখবো বলে। ঠিক এমন সময় আমার ডান কানে এমন জোরে হাত লাগালো যে, এক ঘণ্ঠা কান অবশ হয়ে যায়। মনে হলো, মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। কোনে কারণ ছাড়া সকলের সামনে এমন অপমান কেইবা সহ্য করতে পারে! চেয়েছিলেন আত্মহত্যা করতে। কিন্তু ভাগ্য ভালো ছিল বিধায় হয়তো এখন বেঁচে আছি। তখন বুঝতে পারলাম মানুষ কেন আত্মহত্যা করে আর কেনইবা শিক্ষকদের সাথে ঝামেলা করে। কিন্তু, সহ্য গুণ প্রখর থাকায় আমি একটাও করিনি। কারণ, আমি যথেষ্ট সচেতন ও ভদ্র।
আমি নিজেও একজন শিক্ষকের সন্তান হিসেবে স্যারের সাথে ওহ শব্দও করিনি বেয়াদবি হবে বলে। এরপর পরবর্তী সব ক্লাস শেষে বাসায় পৌছালে দেখি কানের অবস্থা ভয়াবহ। সাথে সাথে ডাক্তার দেখালে তিনটি টেস্ট করতে দেয়।
ঘটনাটি ঘটে গত ২২.১০.২০১৯ তারিখ, রোজ মঙ্গলবার, সকাল ১১টার দিকে।
সত্যিই কি এমন আচরণ কেউ করে? আর একটু হলেই তো চির দিনের জন্য শ্রবণ শক্তি হারিয়ে যেত, তখন এর জন্য দায়ি হতো কে? একজন শিক্ষার্থী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যায় নিজের ভুল-ত্রুটি থেকে বেরিয়ে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে। কিন্তু এমন শিক্ষক যাদেরকে কোনো পাঠ না বুঝে দুবার জিজ্ঞেস করলে সর্বোচ্চ শক্তি সঞ্চিত চড় খেতে হয় তাদের থেকে জাতি কিইবা আশা করতে পারে? তাছাড়া আমিতো তাও করিনি৷ যদি সামান্যও ভুল করতাম, তাহলে মনকে বোঝাতে পারতাম। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়া ক্লাসে সবার উপস্থিতি এমন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড কেন? কেন এই অপমান? যদিওবা অন্য কোনো রাগ আমার উপর ছাড়ার কথা থাকলে আমার পিঠে মারেন, বা অন্য জায়গায় মারেন! মস্তিষ্কের পাশের কানে কেন আঘাত করবেন? এমন জঘন্য কাজ ড্রাগ এডিক্টরও তো করে না। এখন আমি কানে তেমন শুনতে পাই না। মাথা ব্যথাও বেড়ে যাচ্ছে।
শুধু তাই নয়, এমন জঘন্য আচরণ অনেক শিক্ষার্থীর সাথে করেছে বলে অনেক প্রমাণ আছে। তাই ঐ মানুষরুপি স্যারকে সকলে বাঘের মতো ভয় পায়। কিন্তু শিক্ষকরা যদি এমন ভয় দেখাতে থাকে, তবে বর্তমান সৃজনশীল মেধা বিকশিত করা সম্ভব হবে কি? যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা স্বয়ং শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তুলতে নিষেধ করেছেন। তার উপর একজন অনার্সের ছাত্রের সাথে এমন আচরণ কেইবা মেনে নিবে?
অনাসের ছাত্র মানে নিজের একটা স্টেটাস। এ সময় তারা নিজেদের ক্যারিয়ার ও সম্মানের পেছনে ছুটে। কিন্তু এমন কিছু মানুষরুপি শিক্ষকের কারণে পুরো স্বপ্ন ধুলোয় মিশে যায়।
আমি কিন্তু শিক্ষকদের অপমান করছিনা, শুধু শিক্ষকরুপি কিছু উগ্র দয়ামায়াহীন অমানুষদের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। কারণ, এদের থেকে কোনো সুশিক্ষিত জাতি উঠে আসতে পারে না।
পরিশেষে, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে যথাযোগ্য বিচারের দাবিতে কক্সবাজার সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সাংবাদিকবৃন্দ সহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছি।
(বিঃদ্রঃ কাল বৃহস্পতিবারের মধ্যে যথাযথ বিচার না পেলে আমি কি করি নিজেও জানি না। কারণ, আমার কাছে জীবনের চেয়ে সম্মানের মূল্য অনেক বেশী।)













