আজ রামু পাক হানাদার মুক্ত দিবস, উদ্যাপনে দিনব্যাপী কর্মসূচী

0
6

 

আল মাহমুদ ভূট্টো, রামু
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের চুড়ান্ত বিজয়ের প্রাক্কালে ৭ ডিসেম্বর কক্সবাজারের রামু হানাদারমুক্ত হয়। এদিনে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানী পুলিশের কাছ থেকে রামু থানা নিয়ন্ত্রনে নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে রামু মুক্ত দিবস ঘোষনা করেন।
মুক্তিযুদ্ধকালীন এ অঞ্চলের কমান্ডার ছিলেন, সিএইচএম আবদুস সোবহান। পরবর্তীতে তিনি মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন আবদুস সোবহান নামে পরিচিতি পান। তিনি পার্বত্য বান্দরবানের দক্ষিনাঞ্চল হতে কক্সবাজারের টেকনাফ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
রামু থানা অপারেশন সম্পর্কে তিনি জানান, ডিসেম্বরের এ সময়ে সারাদেশে মুক্তিযোদ্ধারা বিজয়ের জন্য মরণকামড় দেন। কক্সবাজার অঞ্চলকে পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত করতে প্রথমে রামুকে শত্রæমুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত হয়- রামুকে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর আওতামুক্ত করতে হলে, রামু থানায় অপারেশন চালাতে হবে। এ প্রত্যয়ে মুক্তিযোদ্ধারা ডিসেম্বরের শুরু থেকে রামুর ঈদগড়ের নতুন মুরংপাড়ায় ক্যাম্প করে অবস্থান নেন। গোয়েন্দা বিভাগের খবর, পাকিস্তানী সৈনিকেরা মুক্তিযোদ্ধাদের উপর আক্রমনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যে কোন মুহুর্তে আক্রমণ করতে পারে। এ খবর পেয়ে ১৫ জন ইবিআর, ইপিআর সদস্যসহ ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা রামুর ঈদগড়ের নতুন মুরংপাড়া ক্যাম্প থেকে অর্ধ মাইল পূর্ব-দক্ষিনে গহীন নির্জন পাহাড়ে হাইডাউট (পরিখা খনন) করে অবস্থান নেয় মুক্তিযোদ্ধারা। গোপন অবস্থান থেকেই মুক্তিযোদ্ধারা ওই এলাকার পরিস্থিতি, পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর গতিবিধি প্রতি নজর রাখেন।

 

৬ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের দলটি ঈদগড়ের নতুন মুরংপাড়া ক্যাম্প থেকে গর্জনিয়া হয়ে সন্ধ্যায় কাউয়ারখোপ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসে অবস্থান নেয়। রাতে বাঁকখালী নদীর ওপারে থানা ভবনের অবস্থান ও চারপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেয়া হয়। ৭ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে মুক্তিযোদ্ধারা রামু থানা অপারেশনের জন্য বেরিয়ে পড়েন। থানার চারপাশে বসতি থাকায় এলাকার জনসাধারনের প্রাণনাশের কথা চিন্তা করে একটু দূরেই অবস্থান নেয় মুক্তিযোদ্ধারা। ওখান থেকেই থানায় অবস্থানরত পাকিস্তানী পুলিশদের আত্মসমর্পনের নির্দেশ দেয়া হয়। পাকিস্তানী পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না থাকায় আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হয়। এ সময় মিত্র বাহিনীর একটি বিমান আকাশে উড়ছিল। পাকিস্তানী পুলিশ বাহিনী মাটিতে অস্ত্র রেখে দু’হাত উঁচু করে দাঁড়ায়। মুক্তিযোদ্ধারা রামু থানায় অবস্থানরত ১৪-১৫ জন পাকিস্তানী পুলিশের কাছ থেকে ৯ থ্রি-নর্থ থ্রি রাইফেলস্ ও গোলা বারুদ কেড়ে নেন। রক্তপাতহীন শত্রæ মুক্ত হয় রামু থানা।
পাকিস্তানী পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিয়ে রামু থানা চত্বরে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন অপারেশন কমান্ডার ক্যাপ্টেন আবদুস সোবহান। ৭ ডিসেম্বর রামু থানা সফল অপারেশনের পর রামুকে মুক্ত ঘোষনা করা হয়।
তাৎপর্য্যপূর্ণ এ দিনটি স্মরণে রামু স্টেডিয়ামে দিনব্যাপী নানা আনুষ্ঠানিকতা হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর আহমদ। তিনি জানান, দিনব্যাপী নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সকালে ম্যুরাল উদ্ধোধন এবং বিকাল ৩টায় আলোচনা সভা এবং মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ। তাৎপর্য্যপূণ রামু মুক্ত দিবস স্মরণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা, সংগঠকসহ নানা পেশাজীবির লোকজন অংশগ্রহণ করবেন।

আগেরামু উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয় উত্তর মিঠাছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়
পরেমিয়ানমার থেকে বাংলাদেশি ১৭ জেলেকে ফেরত আনা হয়েছে