রামুর ব্যবসায়ি জাহাঙ্গীর হত্যার ৩ দিন পার হলেও ঘাতকরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

0
6

রামু প্রতিনিধি
রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের উখিয়ারঘোনা টেইলাপাড়া এলাকার চাঞ্চল্যকর জাহাঙ্গীর আলম হত্যার ৩দিন পার হলেও ঘাতকরা এখনো আটক হয়নি। গত বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একদল দূর্বত্ত তাকে ছুরিকাঘাত ও পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। নিহত জাহাঙ্গীর আলম (৪০) পেশায় মুদি দোকানদার। তিনি ওই এলাকার মৃত বাদশা আলমের ছেলে।
রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল খায়ের জানিয়েছেন, এ ঘটনায় নিহত জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী হাছিনা আকতার শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) রামু থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন। এনিয়ে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত আছে।
বাদী হাছিনা আকতার জানিয়েছেন, তিনি হত্যার ঘটনায় জড়িত ৫ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন। এতে অভিযুক্তরা হলেন, রামুর কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের উখিয়ারঘোনা টেইলাপাড়া এলাকার মৃত নুর আহমদের ছেলে মোস্তাক আহমদ, মৃত বাদশা আলমের ছেলে মকবুল আহমদ, মো. হোছন কালুর ছেলে মীর কাশেম, মকবুল আহমদের স্ত্রী আয়েশা বেগম ও মৃত নুর আহমদের ছেলে মমতাজ মিয়া ভূট্টো।
নিহত জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী হাছিনা আকতার ও স্বজনেরা জানিয়েছেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এজাহারে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন তাদের বিভিন্নভাবে মারধর এবং মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করে আসছিলো। এদের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি সহ আরো বিভিন্ন অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। অভিযুক্তরা গত বুধবার পরিকল্পিতভাবে জাহাঙ্গীর আলমের শরীরে ছুরিকাঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলে তিনি প্রাণ হারান। ময়না তদন্ত শেষে বৃহষ্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকালে নিহত জাহাঙ্গীর আলমের নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।

 

জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী হাছিনা আকতার আরো জানান, হত্যাকান্ডে জড়িতদের সাথে সম্প্রতি জমি নিয়ে তার স্বামীর বিরোধ চলছিলো। এনিয়ে এক সপ্তাহ পূর্বে মকবুল আহমদ তার স্বামীর বিরুদ্ধে কক্সবাজার বিজ্ঞ আদালতে একটি হয়রানিমূলক মামলা করেন। কেবল মামলা দিয়ে তিনি ক্ষান্ত হননি। সর্বশেষ তাঁর স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যাও করলো তারা। ৩ সন্তানের জননী হাসিনা আকতার এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
কাউয়ারখোপ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাবিব উল্লাহ জানান, হামলায় অভিযুক্ত মোস্তাকের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। অন্যান্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে। এলাকার আইনশৃংখলা রক্ষার স্বার্থে তিনি এসব হামলাকারিদের অবিলম্বে গ্রেফতার করার দাবি জানান।
এ ব্যাপারে জানার জন্য হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত মকবুল আহমদের মুঠোফোনে একাধিক কল করা হয়। কিন্তু সংযোগ বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া যায়নি। এলাকাবাসী অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও হত্যাকারিদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে।

 

আগেউখিয়ায় এনাম হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ
পরেরামু বাঁকখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত