
বার্তা পরিবেশকঃ
রামুর চাকমারকুলে সন্ত্রাসী কায়দায় সৌদি প্রবাসীর জমি জবর-দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। টিনের ঘর ও ঘেরা-বেড়া নির্মাণ করে মূল্যবান জমি জবর-দখলের এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৩ এপ্রিল রামুর চাকমারকুল ইউনিয়নের মৌলভী ছালেহ আহমদ পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় হয়রানির শিকার সৌদি প্রবাসী শিব্বির আহাম্মদের স্ত্রী মুঈনা বি জানান-তাদের স্বত্ত¡ঃদখলী সুপারী বাগানটি জবর-দখলের উদ্দেশ্যে ভাড়াটে লোকজন অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে গত শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) হামলা চালায়। হামলায় নেতৃত্ব দেন ওই এলাকার মৃত আবু তাহেরের ছেলে মিজানুর রহমান রাসেল। হামলাকারিরা জমির মালিক মুঈনা বি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকী দিয়ে তাদের ১৯৯৫ সাল থেকে দখলীয় সুপারী বাগানটি টিনের ঘেরা-বেড়া দিয়ে জবর-দখল করে নেয়। বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করলে জবর-দখলকারিরা মুঈনা বি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মারধর, হত্যা ও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির হুমকী দেয়।
এ ঘটনায় শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) রামু থানায় লিখিত অভিযোগ দেন গৃহবধু মুঈনা বি। লিখিত অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে-জবর-দখলকৃত জমিটি তার স্বামী শিব্বির আহাম্মদের ক্রয়কৃত জমি এবং স্বামীর নামে সৃজিত বিএস খতিয়ান চূড়ান্ত প্রচার আছে। বর্তমানে তাঁর স্বামী এবং একমাত্র ছেলে সৌদি আরবে কর্মরত। ফলে বর্তমানে তাঁর পরিবার পুরুষ শূণ্য। তার এ অসহায়ত্বের সূযোগে ভূমিগ্রাসী চক্র সন্ত্রাসী কায়দায় তাঁর স্বামীর নামীয় এ জমিটি জবর-দখলে মেতে উঠেছে।
হয়রানির শিকার গৃহবধূ মুঈনা বি আরো জানিয়েছেন-জমিটি জবর-দখলকারিদের কবল থেকে রক্ষায় তিনি আইনী প্রদক্ষেপ হিসেবে গত ২৭ এপ্রিল কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৪৪ ধারা মতে এমআর মামলা (নং ১০২৫/২০২১) দায়ের করেছেন। বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আমিন আল পারভেজ এ মামলার প্রেক্ষিতে রামু উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) কে সরেজমিন তদন্তপূর্বক মতামতসহ প্রতিবেদন দেয়ার জন্য এবং রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে বিরোধীয় জমিতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন- বিরোধীয় জমিটি সৌদি প্রবাসী শিব্বির আহাম্মদের ক্রয়কৃত এবং এ জমিটি তার পরিবার দীর্ঘদিন ভোগ-দখল করে আসছে। আকষ্মিকভাবে জমিটি সন্ত্রাসী কায়দায় জবর-দখলের ঘটনায় এলাকাবাসিও বিষ্মিত। এলাকাবাসী এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সন্ত্রাসী কায়দায় জমি দখলে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
হয়রানির শিকার গৃহবধূ মুঈনা বি আরো জানান-জবর দখলে নেতৃত্ব দেয়া মিজানুর রহমান রাসেলের আহমেদ কবিরও তাদের বিভিন্নভাবে হুমকী-ধমকি দিচ্ছে। আহমেদ কবির একটি বিশেষ বাহিনী পরিচালিত স্কুলের শিক্ষক। এজন্য ওই বাহিনীর প্রভাব বিস্তার করে আমাদের প্রতিনিয়ত দেখে নেয়ারও হুমকী দিচ্ছে ওই শিক্ষক। তিনি আরো জানান-জবর-দখলকারিরা বর্তমানে থানা প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে ফের এ জমিতে আবারো স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা এবং তাঁর পরিবার-পরিজনকে প্রতিনিয়ত হুমকী-ধমকি দিচ্ছে। এ কারণে তিনি চরম অসহায় মূহুর্ত পার করছেন। এহেন পরিস্থিতিতে তিনি জবর-দখলকারি চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।













