
হাসান তারেক মুকিম:
চাকমারকুল ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের আওয়ামীলীগ বিরোধী কর্মকাণ্ড, স্বজনপ্রীতি, অন্যায়-অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা।১৫জুন বুধবার সকাল ১১টায় রামু উপজেলা পরিষদের সামনে রামু-কক্সবাজার মহাসড়কে আয়োজিত মানবন্ধনে আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি শতশত জনসাধারন অংশগ্রহন করে একাত্মতা প্রকাশ করেন। বালু খেকো নুরু চেয়ারম্যান শাস্তি চাই, ভূমি অফিসের দালাল চেয়ারম্যান নুরুর শাস্তি চাই, ভূমিদস্যু-দখলবাজ নুরু চেয়ারম্যানের শাস্তি চাই,দূর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান নুরুর অপসারণ চাই, আওয়ামীলীগ বিরোধী চেয়ারম্যান নুরুর অপসারণ চাই,চাঁদাবাজ নুরু চেয়ারম্যানের শাস্তি চাই, ইয়াবার পৃষ্টপোষক নুরু চেয়ারম্যানের শাস্তি চাই সহ বিভিন্ন শ্লোগান সম্ববলিত ব্যানার ও পেস্টুন সহকারে নেতৃবৃন্দরা প্রতিবাদ ও শাস্তি দাবী করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চাকমারকুল আওয়ামীলীগ কোন ব্যক্তি বিশেষের আওয়ামীলীগ নয়, এটা জননেত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগ, চাকমারকুল আঃলীগের সভাপতি নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, হুমকি ও কটুক্তি জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার শামিল। বক্তরা আরো বলেন, নাছির উদ্দিন সিকদার একদিনে সৃষ্টি হয়নি, তিনি আওয়ামীলীগের একজন পরিক্ষিত নেতা। কাউন্সিলদের প্রত্যক্ষ ভোটে তিনি আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে এলাকায় দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ভবিষ্যতে চাকমারকুল আওয়ামীলীগ সভাপতি সহ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্র ও হুমকি প্রদর্শন করা হলে রামু আওয়ামীলীগ রাজপথে নেমে দাঁত ভাঙ্গা জবাব দেয়ার হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন।

মানবন্ধনে চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের আপন ভাই আমিনুল ইসলাম বলেন, অর্থের মোহে বিভোর হয়ে আমার ভাই কোন পরিবারের সন্তান তা ভুলেই গেছেন।তার বিভিন্ন দৃষ্টিকটু কর্মকান্ডের কারনে আমাদের পরিবারের ভাবমূর্তি আজ অনেকটা তলানীতে, মানুষ আজ আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে আঙ্গুল তুলতে দ্বিধাভোধ করছে না। আমার মুরহুম বাবা আমির হামজা সিকদার সুনামের সহিত এ অঞ্চলে দীর্ঘ বছর চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে জনগনের ভালবাসা ও আস্থা অর্জনে সমর্থ হয়েছিলেন। অথচ আজ আমার ভাইয়ের অ্ন্যায় অনিয়মের কারনে আমার বাবার সেই অর্জন কালিমায় ঢেকে পড়ল।

চাকামারকুল আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার জেলায় অভুতপূর্ব উন্নয়নসাধন করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে রামু উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়নের ছোয়া লেগেছে। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় রামুর এগার ইউনিয়নে কাঙ্খিত উন্নয়ন হলেও চাকমারকুল ইউনিয়নের জনসাধারন উন্নয়নের সুফল থেকে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। চাকমারকুলের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম এর আওয়ামীলীগ বিরোধী কর্মকাণ্ড,স্বজনপ্রীতি, অন্যায়-অনিয়ম ও দূর্নীতির কারনে এ ইউনিয়নে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ । তিনি চেয়ারম্যান পরবর্তী টাকার লোভে উদ্মাদ হয়ে নানা অনিয়মে- দূর্নীতিতে জড়িয়ে সরকারী লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করছে। তার দুই মেয়াদে এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি। ফলে এলাকার সাধারণ মানুষ তার প্রতি বেশ ক্ষুব্ধ। এলজি এসপি, ১% , টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পেও চলেছে লুটপাটের মহোৎসব। পূর্ণাঙ্গ কাজ না করেই প্রকল্পের বিল উত্তোলন করে সমস্ত টাকা নিজেই আত্মসাৎ করছে।এমনকি একটি কাজে বারংবার প্রকল্প দেখিয়ে সরকারী টাকা হরিলুট করে যাচ্ছে। বানিজ্যিক কেন্দ্রে পরিনত করেছে ইউনিয়ন পরিষদকে । জন্মনিবন্ধন ফি নেয়া হচ্ছে আগের চেয়ে দ্বিগুন। হোল্ডিং ট্যাক্সের কথা বলে প্রতি জনের কাছ থেকে অন্যায় ভাবে ১১০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে।

চাকমারকুল ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম এলাকায় একজন বালু খেকো ও মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রক হিসাবে পরিচিত। চেয়ারম্যান নুরু তার নিজস্ব লোক দিয়ে একটি বালু মহালের ইজারা নিয়ে বাঁকখালীর ১০টির অধিক পয়েন্টে নিষিদ্ধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে সরকারী কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছেন। সম্প্রতি এন আলম ফিলিং স্টেশনের দক্ষিন পার্শ্বে বাঁকখালী নদীতে তিনটি বড় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে লক্ষ লক্ষ টাকা বানিজ্য করেছে। এ নিয়ে জাতীয় দৈনিক কালের কন্ঠ সহ স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ হয়েছিল
তিনি চেয়ারম্যান হওয়ার পর টাকার মোহে নানা অনিয়ম-দূর্নীতিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।তার নিজস্ব সাঙ্গ পাঙ্গ ও গুন্ডাবাহীনির নানা অসামাজিক কর্মকান্ডে অতিষ্ট এলাকার সাধারন জনগন। তার ছত্রছায়ায় এলাকায় চলছে ইয়াবার রমরমা বানিজ্য। তার নতুন চর পাড়া এলাকাটি যেন ইয়াবায় ভাসছে। চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সিকদার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এসব ইয়াবা ব্যাবসায়ীর কাছ থেকে মাসিক মাসোয়ারা নিয়ে তাদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছে।

চেয়ারম্যান নুরু পরিষদকে নিজের ব্যবসায়ীক প্রতিষ্টানে পরিনত করেছে। মোটা অংকের টাকা নিয়ে অসংখ্য রোহিঙ্গাকে ভোটার করিয়েছেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের ভুমিহীন সার্টিফিকেট দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সম্প্রতি রোহিঙ্গাকে প্রত্যয়ন দিয়ে ভোটারে সহায়তা করেছেন এমন চিত্র জনসম্মুখে প্রকাশ্য হলে চেয়ারম্যান নুরু নিজের দোষ ঢাকতে ইউপি সদস্যদের উপর দোষ চাপিয়ে দিচ্ছেন। পরিষদে যে সমস্ত মেম্বার চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের অন্যায়-অনিয়মে সহযোগীতায় অপারগতা প্রকাশ করেন সে সমস্ত মেম্বারবৃন্দকে প্রতিনিয়ত লাঞ্চিত এমনকি মারধরের শিকার হতে হচ্ছে। ইতিপূর্বে তার অন্যায় অনিয়মে সাড়া না দেয়ায় পরিষদের এক চৌকিদারকে মারধর করে গুরতর জখম করেন।
এছাড়া ইউপি নির্বাচনে তার বিরোধি লোকজনকে পরিষদীয় সেবা থেকে বঞ্চিত করছে। নানা অজুহাতে তাদের সাথে র্দূব্যবহার সহ হেনস্থা করছে প্রতিনিয়ত। এমনকি প্রশাসনকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনকে নানাভাবে হয়রানী করে যাচ্ছে। চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম কখনো আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না। যে দল ক্ষমতায় আসে সে দলের কোলে উঠে ক্ষমতার ছায়াতলে গিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করেন। মুলত চেয়ারম্যান নুরু ইসলাম আওয়ামীলীগের ছত্রছায়ায় থেকে নিজের প্রভাবকে পাকাপোক্ত করে কোটি কোটি টাকার পাহাড় গড়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীর সাথে তার কোন প্রকার সম্পর্ক নেই। তার কুপ্রভাব আর অশ্রদ্ধার কারনে চাকমারকুলের আওয়ামীলীগ আজ দিসেহারা। অতিতে চেয়ারম্যান নুরু ও তার পরিবারের অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পেত না। মুলত বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকান্ডকে বেগবান করার প্রয়াসে চাকমারকুল চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের অন্যায় অপকর্মের বিরুদ্ধে চাকমারকুল আওয়ামীলীগ ও প্রতিশ্রুতিশীল কিছু মানুষ এলাকার নানা অসঙ্গতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার কারনে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালাচ্ছে চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম গং।

চেয়ারম্যান নুরু প্রথমবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার ২০-৪০ জন অসহায় কৃষকের নামে কৃষি ব্যাংক রামু শাখা থেকে ঋন নিয়ে নিজেই সব টাকা আত্মসাত করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগিরা নিজের ভিটেমাটি ও গরু ছাগল বিক্রি করে উক্ত লোন শোধ করেন। অধ্যবদি অসহায় মানুষগুলো চেয়ারম্যানের দ্ধারে দ্বারে ঘুরছেন তাদের প্রাপ্য টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে।এব্যাপারে চাকমারকুল ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের অনিয়ম দূর্নীতির ব্যাপারে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থাগ্রহনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে চাকমারকুল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা।মানববন্ধন শেষে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনওকে চাকমারকুল ইউপি চেয়ারম্যানের আঃলীগ বিরোধী কর্মকাণ্ড, অন্যায়-অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে ইউনিয়ন আঃলীগের নেতৃবৃন্দরা সাম্মরলিপি প্রদান করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, রামু উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক শামশুল আলম, যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক নুরুল কবির হেলাল,অর্থ সম্পাদক নুরুল ইসলাম সেলিম,সাংগঠকিক সম্পাদক ইউনুচ রানা চৌধুরী, নুরুল হক চৌধুরী, রাজারকুল ইউনিয়ন আঃলীগের সভাপতি সরওয়ার কামাল সোহেল, ঈদগড় আঃলীগের সভাপতি হাজ্বী নরুল আলম, সাধারন সম্পাদক কায়েস বাঙ্গালী,রশিদ নগরের সভাপতি বজল আহমদ বাবুল, সাধারন সম্পাদক শাহীন, চাকমারকুল আঃলীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন সিকদার, সাধারন সম্পাদক দেলওয়ার হোসেন, যুব নেতা আমিনুল ইসলাম সিকদার,চাকমারকুল ৩নং ওয়াড় আঃলীগ সভাপতি আবুল কাশেম,৯নং ওয়াড় আঃলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনির আলম,চাকমারকুল মানবকল্যান সোসাইটির সভাপতি জাবেদ ইকবালসহ উপজেলা ও চাকমারকুল আঃলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।













