
হাসান তারেক মুকিম,রামু
দেশ স্বাধীনের পর পেরিয়ে গেছে যুগের পর যুগ। গ্রামে বেড়ে ওঠা মানুষগুলোও কাদা-মাটি মাড়িয়ে চলতে চলতে বার্ধক্য কাটিয়ে অনেকেই এখন আর নেই। আবার কেউ বেঁচে আছেন কালের সাক্ষী হয়ে। কিন্তু অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভাগ্য বদল হয়নি কক্সবাজারের রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের তুলাতলী গ্রামবাসীর।
স্বাধীনতার ৫২ বছরেও পাকা সড়ক দেখেনি এ গ্রামের মানুষ। ফলে শত শত পরিবারের দুর্ভোগ অবর্ণনীয়।
কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের পূর্ব তুলাতলী, পশ্চিম তুলাতলী গ্রামটি গর্জনিয়া বাজার ও নাইক্ষ্যংছড়ি প্রধান সড়ক লাগোয়া। যার কারনে এ সড়কটি অত্যন্ত গুরত্ব বহন করে। সমগ্র দেশে দৃষ্টান্তহীন উন্নয়ন সাধন হলেও এর ছিটেফোঁটা পড়েনি এ এলাকায়। এর পেছনে জনপ্রতিনিধিদের ব্যর্থতাকেই দায়ী করছেন স্থানীয় সচেতন মহল
জন্মসূত্রে এই গ্রামের বাসিন্দা আবুল বাশার নয়ন জানান, এই গ্রামের মাটির নির্মিত গ্রামীন সড়কে আজও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। যার কারনে যুগ যুগ ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে স্থানীয় দুই শতাধিক পরিবারের প্রায় দুই হাজার মানুষ। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলে সড়কটির অবস্থা নাজুক হয়ে পড়ে। প্রধান সড়ক থেকে গাড়ি ঢুকানো যায়না সড়কে। ভোট কেন্দ্রিক জনপ্রতিনিধিরা উন্নয়নের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে এলাকার মানুষের সাথে কেবল প্রতারণাই করে যাচ্ছেন দিনের পর দিন।
তিনি আরো জানান, বর্তমানে প্রতিটি ঘরে স্কুল-কলেজ ও মাদরাসা পড়ুয়া দুই শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। গ্রামে কোন পাকা সড়ক না থাকায় বৃষ্টি পড়লে সবচেয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয় এসব শিক্ষার্থীদের।
স্থানীয় বাসিন্দা, নুরুল কবির, নুরুল আমিন, শাহ আলম, সোলতান আহমদ জানান, গ্রামের প্রধান সড়কটি শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহার করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে সড়কটিতে হাঁটু পরিমাণ কাঁদা হয়ে পড়ে। বর্তমানে এই সড়কে বড় বড় গর্ত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামত করেছে।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা লাল মিয়া, মতিউর রহমান, মোহাম্মদ, ফরিদুল আলম জানান, বর্ষা মৌসুমে এই গ্রামের সড়কের অবস্থা দেখলে কোন মেয়ের বিয়ের সম্বন্ধ আসবে না।
এই প্রসঙ্গে কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনসার হোসেন মানুষের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, সড়কটি অন্তত ব্রিক সলিং করা দরকার। এই সড়কটির উন্নয়ন হলে তুলাতলী পুরাতন আশ্রয়কেন্দ্র হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি স্টিল ব্রিজ এবং রুপনগর সড়ক লাগোয়া মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে।
জানতে চাইলে রামু উপজেলা প্রকৌশলী মনজুর আহসান ভূইয়া সরজমিনে পরিদর্শন করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানান।













