
হাসান তারেক মুকিম,রামু
রামুতে ক্রয়ের বৈধ কাগজ থাকা স্বত্বেও গরু ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ১১ বিজিবির বিরুদ্ধে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ও লোকসানের কবলে পড়ে সাধারন ক্রেতা, প্রান্তিক খামারী ও ব্যবসায়ীদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে।
জানা যায়, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে জেলা প্রশাসক গত বুধবার (২১ মে) কচ্ছপিয়া বাজার নামে কুরবানীর পশুরহাটের অনুমোদন দেন। এতে স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলেন রামুর পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার প্রান্তিক খামারি ও ব্যবসায়ীগন। যার প্রেক্ষিতে
যথারীতি বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে পশুর হাটের কার্যক্রম শুরু হলে গৃহপালিত গরু-মহিষ ও ছাগলে ভরে যায় পুরো হাট। কুরবানীর পশু ক্রয়ে হাটে ক্রেতা সাধারনের ভিড়ও ছিল লক্ষনীয়। ক্রেতাগণ বাজার থেকে চাহিদানুযায়ী গরু কিনে রশিদ সহকারে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রাকালে বিজিবি তাদের গরুসমুহ আটকে দেয়। ক্রয়ের বৈধ কাগজপত্র থাকা স্বত্বেও বিজিবি’র সদস্যরা ক্রেতা সাধারনের কোন কথাই শুনতে চাননি। তারা গরুগুলো ক্যাম্পে নিয়ে যায়।
বিজিবির গরু আটকের শিকার ঘুনধুম এলাকার বশির আলম জানান, কোরবান উপলক্ষে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকায় কচ্ছপিয়া পশুর হাট খেকে একটি গৃহ পালিত দেশীয় গরু ক্রয় করে ফিরছিলেন। প্রতিমধ্যে বিজিবি বার্মিজ গরুর অজুহাতে আমার গরুটি আটক করে নিয়ে যায়। তাদেরকে বাজারের বৈধ রশিদ দেখানোর পরও গরুটা ছাড়ে নাই।
পুর্ব রাজারকুল এলাকার হাজ্বি সুলতান আহমদ জানান, কোরবানীর জন্য ২লক্ষ ৪০ হাজার টায় ২ টি দেশীয় গরু ক্রয় করে বাড়ির উদ্দেশ্যে ফেরার পথে বিজিবি গরুগুলো আটক করে, এসময় তাদেরকে বাজারের বৈধ রশিদ দেখাতে গেলে উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে রশিদগুলো তাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয় বিজিবি।
একইভাবে অভিযোগ করেন খরুলিয়া দরগাহ পাড়া এলাকার নুরুল হক, ব্যবসার উদ্দেশ্যে ৩ লক্ষ ৩০ হাজার টাকায় ৪ টি, মিঠাছড়ির ওমখালী এলাকার আয়াত উল্লাহ ২ লাখ ৪০ হাজার টাকায় ৩ টি ও খরুলিয়া এলাকার আবু ছিদ্দিক ৭লাখ ৬০হাজার টাকায় ৪ টি দেশীয় গরু কিনে ফেরার পথে বিজিবি আটকে দেয়। এসময় গরু ক্রয়ের বৈধ কাগজ দেখানোর চেষ্টা করা হলে বিজিবির সদস্যরা তাদেরকে বেদড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ করেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে রামুর ব্যবসায়ীরা জানান, ধার কর্য করে লাভের আশায় বৈধ পন্থায় সরকারী অনুমোদিত বাজার থেকে গরু ক্রয় করছেন। ক্রয়ের যথাযথ কাগজপত্র থাকা স্বত্বেও বিজিবি তাদের বৈধ গরু আটক করছে। এভাবে চলতে থাকলে ক্রেতা সাধারনের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের নিঃস্ব হয়ে পথে বসা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। একই সাথে মূলধন হারিয়ে অনেক ব্যবসায়ী পশু ব্যবসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবেন।
সচেতন মহলের অভিযোগ, সীমান্ত দিয়ে আসা অবৈধ গরু-মহিষ আটকে বিজিবির কোন প্রকার তৎপরতা নেই। অথচ সরকারীভাবে ইজারাকৃত বাজার থেকে ক্রয়কৃত বৈধ গরু আটক করছে প্রতিনিয়ত। তাদের অভিযোগ প্রতিদিন সীমান্ত দিয়ে পাহাড়ী চোরাই পথে শত শত গরু প্রবেশ করছে অথচ বিজিবি ঐসমস্ত গরু আটকে উদাসীন। সীমান্তে গরু আটকে দেয়া হলে একটি গরুও বাজার পর্যন্ত আসার সুযোগ নেই। কিন্তু তারা সেটা করছে না। তারা বাজারের বৈধ রশিদের গরু আটকের মাধ্যমে সরকার ও ক্রেতা সাধারনকে মুখোমুখি দাড় করাচ্ছে। একই সাথে বিষয়টি অমানবিকও বটে। এতে করে ক্রেতা ও ব্যবসায়ী লোকসানের কবলে পড়বে।
কচ্ছপিয়া পশু বাজারের ইজারাদার দেলোয়ার হোসেন জানান, প্রশাসনের অনুমোদিত বাজারের রশিদকৃত গরু আটকের ফলে অনেকেই হাটে গরু আনতে অনাগ্রহী হয়ে পড়ছেন। ইতোমধ্যেই লোকসানে পড়ে দেনাগ্রস্ত হয়ে নিঃস্ব হওয়ার পথে অনেক ব্যবসায়ী।
বাজারের বৈধ রশিদের গরু আটকের ব্যাপারে জানতে চাইলে ১১বিজিবির অধিনায়ক ও জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল এস কে এম কফিল উদ্দিন জানান, ভুয়া রশিদের মাধ্যমে চোরাকারবারিরা বার্মিজ গরু পাচার করছিল। বিজিবি এসব গরু আটক করেছে। যথাযথ প্রমানাদি উপস্থাপনে সমর্থ হলে গরু ছেড়ে দেয়া হবে বলেও জানান।













