
মিজানুল হক:
রামুর চাকমারকুল পশুর বাজার থেকে নিলামের বৈধ কাগজের ১৫ গরু ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীরা নিলামের যথাযথ কাগজ দেখালেও কোন কথাই শুনতে চাননি যৌথবাহিনীর সদস্যরা। ২৯ মে সন্ধ্যায় উপজেলার স্থায়ী পশুর হাট কলঘর বাজার থেকে গরুগুলো আটক করে ৩০ বিজিবির হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়।
ভূক্তভোগী ব্যবসায়ী খরুলিয়া এলাকার মিজানুর রহমান, হেলাল উদ্দিন ও মোঃ মিজান জানান, সদর উপজেলার খরুলিয়া এলাকার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের কাছ থেকে নিলামের বৈধ কাগজপত্র সহকারে ১৫ টি গরু ক্রয় করেন। যথারীতি গরুগুলো আজকে সন্ধ্যায় চাকমারকুল পশুর আড়তে সরবরাহকালে যৌথবাহিনী আটক করে। এসময় ব্যবসায়ীরা সরকারীভাবে নিলামের যথাযথ কাগজসমুহ উপস্থাপন করলে যৌথবাহিনী ব্যবসায়ীদের কোন দাবি আমলে নেননি। পরে রামু ৩০ বিজিবি গরুগুলো তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়।
ক্ষোভ প্রকাশ করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা আরো জানান, সরকারী নিলামের যথাযথ কাগজপত্র থাকা স্বত্বেও প্রশাসন বৈধ গরু আটক করছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসায়ীদের নিঃস্ব হয়ে পথে বসা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না। একই সাথে মূলধন হারিয়ে অনেক ব্যবসায়ী পশু ব্যবসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবেন।
চাকমারকুল বাজার ইজারাদার জাবেদ ইকবাল জনান, রামুর চাকমারকুল বাজার জেলা প্রশাসনের তালিকাভূক্ত একটি স্থায়ী পশুর হাট। যেখানে সপ্তাহে সাতদিনই পশু বেচাকেনা করা হয়।
এমতাবস্থায় নিলামের বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও যৌথবাহিনীর গরু আটক প্রান্তিক খামারী ও ব্যবসায়ীদেরকে চরমভাবে ক্ষতির সম্মুখীন করছে।
রামুর সচেতন মহলের দাবি, সীমান্ত দিয়ে আসা অবৈধ গরু-মহিষ আটকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন প্রকার তৎপরতা নেই। অথচ সরকারীভাবে ইজারাকৃত বাজার থেকে ক্রয়কৃত বৈধ গরু আটক করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাদের অভিযোগ প্রতিদিন সীমান্ত দিয়ে পাহাড়ী চোরাই পথে শত শত গরু প্রবেশ করছে অথচ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঐসমস্ত গরু আটক করতে উদাসীন। সীমান্তে গরু আটকে দেয়া হলে একটি গরুও বাজার পর্যন্ত আসার সুযোগ নেই। কিন্তু তারা সেটা করছে না।
তারা উল্টো নিলামের বৈধ গরু আটকের মাধ্যমে সরকারকে প্রান্তিক খামারী ও ব্যবসায়ীদের মুখোমুখি দাড় করাচ্ছে। এটি চরম উদ্বেগের ব্যাপার, একই সাথে বিষয়টি অমানবিকও বটে। এতে করে ক্রেতা ও ব্যবসায়ী লোকসানের কবলে পড়ে নিঃস্ব হবে।
জানতে চাইলে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুল ইসলাম জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি). মোঃ সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল এর নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত ছিল, গরু চিহ্নিত করণ বা আটকের কোন কার্যক্রমে ছিল না।
এদিকে ভূক্তভোগী ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
প্রেরক: হাসান তারেক মুকিম,রামু
২৯ মে ২৫
০১৮১৮১০৪১৯৫













