এম আবুহেনা সাগর,ঈদগাঁও থেকে
২০১৩ সালে চাকুরী করার অভিজ্ঞতা রয়েছে প্রায় এক বছর। চাকরি করার সময়ই অভিজ্ঞতা কে কাজে লাগিয়ে নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার স্বপ্ন দেখেন খুব দ্রুতই। ২০১৪ সালে সময় যায় স্বপ্নের পূর্ণতা পায়। এখন নিজেকে (তারুন) এক জন উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন। বর্তমানে আইটি ব্যবসা অত্যন্ত চাহিদা সম্পন্ন হওয়ায় তিনি আইটি ট্রেনিংয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। নাম হচ্ছে “ইটিএস কম্পিউটার ইন্সটিটিউট “যেটি দেশের কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন প্রাপ্ত (৭৪০৫১)
২০১৯ সালে এসে “কর্মই জীবন ” স্লোগান দিয়ে আরেকটি প্রতিষ্ঠান করেন সেটি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন প্রাপ্ত (০০১০)।
অদূর ভবিষ্যতে আরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে তারেকুল হাসানের। কর্মজীবনের শুরুটা ছিল কঠিন। কোনই পুঁজি ছিলনা, ছিল বুকভরা আশা আর দুচোখ ভরা স্বপ্ন । ব্যবসা শুরু করার অনেক আগে থেকেই সর্বাত্মক সহযোগিতা করে তার কয়েক বন্ধু,মা, চার বোন এক ভাইয়ের তাদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যক্তি ও কাছের বন্ধুরা ব্যবসার উন্নতির জন্য উৎসাহ, অনুপ্রেরণা ও সাহস জুগিয়েছে সর্বদা। তবে উদ্যোক্তা তারেকুল হাসান তারুন জানিয়েছেন এ প্রতিবেদককে, একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে বহু ধরনের বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়েছিল,ব্যবসার ক্ষেত্রে অর্থ যেমন প্রয়োজন হয়,সাহসও তেমনি প্রয়োজন, সাহস ছাড়া ব্যবসা করা সম্ভব নয় বলে জানান।
বেকারত্ব দূরীকরণের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ নিতে চান তিনি। স্বপ্ন দেখেন তার প্রতিষ্ঠানকে সবোর্চ্চ চূড়ায় নিয়ে যাওয়ার, শতশত বেকার বা কর্মহীন লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার। স্বপ্নকে কি বাস্তবে রুপ লাভ করতে পারবে কি তিনি। এ চিন্তা আর চেতনা নিয়ে দুরন্তপনায় এগিয়ে যান তারুন। তরুন প্রজন্মের নবীন ব্যবসায়ীদের প্রতি
তিনি বলেন, তাদেরকে তাদের আত্মবিশ্বাসের জায়গাটা অটুট রাখতে হবে এবং প্রচুর পরিশ্রমী হতে হবে । যে পণ্য বা সেবা নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাকে অবশ্যই সে বিষয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ বা অন্য কোম্পানির চাকরিতে যোগদান করতে হবে, যেন সেই কোম্পানি থেকে তার ভবিষ্যতের সৃষ্টি করা কোম্পানির জন্য কিছু শিখতে পারে, জানতে পারে এবং সাফল্য অর্জন করতে পারে। মনে রাখতে হবে যে,সাবর্ক্ষনিক
নিষ্ঠা আর সততার পথে চলতে হবে, মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে তাহলেই সে ভবিষ্যতে সাফল্য অর্জন করতে পারব।
ইটিএস কম্পিউটার ইন্সটিটিউট ২০১৪ সালে মাত্র বিশ হাজার টাকা পুজি নিয়ে রনি আর্ট থেকে একটি কম্পিউটার ধার নিয়ে ইসলামপুর এলাকার তুষারকে (স্টুডেন্ট) পার্টনার করে দুই জনে চৌত্রিশ হাজার টাকা পুজি করে কলেজ গেইট শওকতের সহযোগিতায় বিটু স্যার,নোমান
এনাম হুজুর, আমান উল্লাহ আমান,আপনান, তুষারের আব্বু,সেলিম বাহাদুর,তৈয়ব,বন্ধুবর ফায়সালসহ অনেকে প্রতিষ্ঠানের প্রথম দিনে আমাকে এই জগতে কাজ করার সুযোগ করে দেয়। তখন প্রশিক্ষনার্থী মাত্র ৪ জন (রিদুয়ান, রিদুয়ান, ইসমাইল, আবু বক্কর)। এভাবে ৫ মাস অতিবাহিত হল, কোন প্রশিক্ষনার্থী ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা আসছেনা। অফিসের তদারককারী আমাকে অফিস ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তাব দেন, প্রায় ৩ মাস পর রিকোকে বিচার দিল যে, আমাদের প্রতিষ্ঠানে ইনভেস্ট করা টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য। প্রথম প্রথম বেশ ভাল ছিল, এভাবে কয়েক মাস পার করলো। আমার যে টার্গেট সে টার্গেট পরির্পূন হচ্ছে। তখন ২০১৫ সাল রবি হাউজের আন্ডারগ্রাউন্ডে একটি রুম নিয়ে সিফট করি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার,বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড অধি ভূক্ত তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রফেশনাল প্রশিক্ষণ প্রদান কারী প্রতিষ্ঠান ইটিএস কম্পিউটার ইন্সটিটিউট ’এ দেশের শিক্ষিত বেকার যুবক/যুব মহিলাদের দক্ষ জনবল তথা আত্ম কর্মসংস্থানের উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড অধীভূক্ত ছয় মাস মেয়াদী বেসিক ট্রেড কোর্স সমূহে সরকার নির্ধারিত সীমিত সংখ্যক আসন ভিত্তিতে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হচ্ছে। কোর্স সমুহ হলো-কম্পিউটার প্রশিক্ষণ,সেলাই প্রশি ক্ষণ আর ড্রাইভিং প্রশিক্ষন।
সবুরে মেওয়া ফলে, এ প্রবাদ বাক্যেকে সামনে রেখে ঘাত প্রতিঘাত আর বাঁধা বিপত্তিকে ছুটে ফেলে দূর্বার গতিতে অন্ধকার থেকে আলোর পথে এগিয়ে যাচ্ছে তারেকুল হাসান তারুনের নেতৃত্বে ইটিএস নামক প্রতিষ্টানটি। অভিষ্ট লক্ষে পৌছুক এ প্রত্যাশা।













