পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু সেন্টমার্টিনে

0
8

কক্সবাজার খবর ডেস্কঃ

বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। স্থানীয় ভাষায় সেন্টমার্টিনকে নারিকেল জিঞ্জিরা বলেও ডাকা হয়। অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমন্ডিত এ দ্বীপটি বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন স্থান হিসাবে জায়গা করে নিয়েছে। বালি, পাথর, প্রবাল কিংবা জীব বৈচিত্র্যের সমন্বয়ের এই দ্বীপ ভ্রমণ পিপাসুমানুষের জন্য অনুপম অবকাশ কেন্দ্র। ভ্রমণ মৌসুমে ছোট্ট এই প্রবাল দ্বীপে পর্যটকদের ঢল নামে।

টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ থেকে সাগর পথে এর দূরত্ব ৯ কিলোমিটার। দুই যুগ আগেও সেন্টমার্টিন দ্বীপে একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম ছিল কাঠের নৌকা আর ইঞ্জিনচালিত বোট। তবে এখন সেন্টমার্টিন যাতায়াতে যুক্ত হয়েছে অত্যাধুনিক বিলাসবহুল জাহাজ।

 

 

 

চলতি মৌসুমে বৃহস্পতিবার থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরুর অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন। টেকনাফ থেকে এর দূরত্ব ৩২ কিলোমিটার। টেকনাফের কেয়ারী ঘাট থেকে জাহাজে করে সেন্টমার্টিন পৌঁছাতে সময় লাগে আড়াই ঘণ্টা।

বেশ কয়েক বছর ধরে পর্যটন মৌসুমে সেন্টমার্টিনে দেশি-বিদেশি হাজারও পর্যটক ভিড় করছে। এসব পর্যটক বহনে যুক্ত হয়েছে অর্ধডজন বিলাসবহুল জাহাজ। চাহিদার কারণে আজ থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন সমুদ্রপথে একাধিক জাহাজ চলাচল শুরু করছে। তবে এ পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের অনুমতি পেয়েছে পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারি সিন্দাবাদ, কেয়ারি ক্রুজ এন্ড ডাইন এবং দ্য আটলান্টিক, এমডি ফারহান নামের চারটি জাহাজ।

গত ৩০ অক্টোবর জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন এসব জাহাজ চলাচলে অনুমোদন দিয়েছেন। এর আগে এ চারটি জাহাজ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন (বিআইডব্লিউটিএ) চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-পরিচালকের কার্যালয় থেকে ২০২০ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলাচলের অনুমতি পেয়েছে বলেও জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারী সিন্দাবাদের ব্যবস্থাপক শাহ আলম জানান, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং জেলা ও স্থানীয় প্রশাসন থেকে অনুমতি সাপেক্ষে বৃহস্পতিবার থেকে জাহাজ চলাচল শুরুর অনুমতি পেয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিউল হাসান জানান, সাগর কিছুটা উত্তাল থাকায় স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে এতদিন জাহাজ চলাচল বন্ধ ছিল। আবহাওয়া ভালো থাকলে বৃহস্পতিবার থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হবে। জাহাজে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে জানান তিনি।

 

 

 

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি মো. জিল্লুর রহমান জানান, দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত ও সেন্টমার্টিন-সোনাদিয়া আমাদের জাতীয় সম্পদ। এখানকার সৌন্দর্য ও আকর্ষণে এখানে প্রতি বছর লাখ লাখ পর্যটক ভ্রমণ করে থাকেন। ট্যুরিস্ট পুলিশ পর্যটন এলাকায় ভ্রমণে আসা পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে।

কিভাবে যাবেন সেন্টমার্টিন ?

বাংলাদেশের যে কোনও স্থান থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য আপনাকে প্রথমে যেতে হবে কক্সবাজার। কক্সবাজার থেকে প্রথমে জিপে চড়ে টেকনাফ, টেকনাফ থেকে সি-ট্রাক, জাহাজ কিংবা ট্রলারে চড়ে পৌঁছাবেন সেন্টমার্টিনে। প্রতিদিন ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায় দূরপাল্লার বেশ কিছু গাড়ি। ঢাকা থেকে বাসে ভাড়া লাগবে এসি ১২০০-১৪০০ এবং নন-এসি ৮০০-৯০০ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে বাসে ভাড়া লাগবে এসি ৬০০-৮০০টাকা এবং নন-এসি ২৪০-২৫০টাকা।

কক্সবাজার তো গেলেন তারপর বাসে ১৪০ টাকা, অথবা রিজার্ভ মাইক্রোবাসে সেন্টমার্টিন যেতে ভাড়া লাগবে পারেন। প্রতিদিন সকাল থেকে কক্সবাজার-টেকনাফ রুটে চলাচল করে এসব গাড়ি। টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে প্রতিদিন সকাল থেকে আসা-যাওয়া করে জাহাজ। চমৎকার এসব জাহাজের পাশাপাশি ট্রলার ও চলাচল করে এই সমুদ্র রুটে। পছন্দসই বাহনে যেতে পারেন। এসব জাহাজে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যেতে সময় লাগে দুই ঘণ্টা। অন্যদিকে প্রতিদিনই বিকাল ৩টায় এসব সাহাজ সেন্টমার্টিন ছেড়ে আসে।

আগেগাড়ি চালানোর সময় ফোনে কথা বললেই জেল-জরিমানা
পরেনাইক্ষ্যংছড়িতে জাতীয় যুব দিবসের র‌্যালী, আলোচনা সভা ও ঋণ বিতরণ